সমুদ্রবন্দরে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা ডিজেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে রাশিয়া। গতকাল এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে ক্রেমলিন। তবে পেট্রল রফতানি নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে রুশ প্রশাসন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিজেল, পেট্রল রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল দেশটি। খবর সিএনবিসি ও রয়টার্স।
ডিজেল রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুললেও শুল্ক আরোপসহ একাধিক শর্তজুড়ে দিয়েছে মস্কো। জানিয়েছে, ‘এখন থেকে রিসেলারদের টনপ্রতি ৫০ হাজার রুবল শুল্ক গুনতে হবে।’ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে মূলত রফতানিকে টার্গেট করে অগ্রিম জ্বালানি কেনাকে নিরুৎসাহিত করেছে দেশটি।’
বিবৃতিতে ক্রেমলিন বলেছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে সমুদ্রবন্দরে সরবরাহ করা ডিজেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। এজন্য পরিশোধনকারীকে উৎপাদিত ডিজেলের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ করতে হবে।
অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেল, পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হন। সেচসহ, কৃষিপণ্য পরিবহন ও চাষাবাদ কার্যক্রমে খরচ বেড়ে যায়। ফলে দেশীয় বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানি দুটির রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মস্কো। তখন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য যতদিন প্রয়োজন বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।’
জ্বালানি দুটির রফতানি বন্ধের পর অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের পাইকারি দাম ২১ শতাংশ কমে যায়। পেট্রলের দাম কমে ১০ শতাংশ। তবে সরবরাহ স্বল্পতার আশঙ্কায় রফতানি বন্ধের ঘোষণার পর পরই বৈশ্বিক বাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে যায়। তথ্য বলছে, রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম ডিজেল সরবরাহকারী ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক। গত বছর দেশটি ৩ কোটি ৫০ লাখ টন ডিজেল রফতানি করেছে। মোট রফতানির তিন-চতুর্থাংশই পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করেছে। একই বছর ৪৮ লাখ টন পেট্রল রফতানি করেছে দেশটি।










