ভারতে চলতি সপ্তাহে চালের রফতানি মূল্য বেড়েছে। গত জুনের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে খাদ্যপণ্যটির দাম। অন্যদিকে এ সময় থাইল্যান্ডে চালের দাম স্থিতিশীল ছিল। বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিজনেস রেকর্ডার।  

শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভারতে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের টনপ্রতি মূল্য ছিল ৫৪০-৫৪৭ ডলার। চলতি সপ্তাহে তা টনপ্রতি ৫৪৩-৫৫১ ডলারে পৌঁছেছে। 

এর আগে সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছর অভ্যন্তরীণ দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল রফতানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ভারত সরকার। চলতি বছরও এসব বিধিনিষেধ কার্যকর আছে। তবে শিগগিরই ভারত সরকার এসব বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশটির সরকারি এক সূত্র জানিয়েছে। সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বাসমতী চালের ন্যূনতম রফতানি মূল্য (এমইপি) কমাতে পারে ভারত। পাশাপাশি সেদ্ধ চাল রফতানিতে ২০ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট শুল্ক নির্ধারণ করে দেয়া হতে পারে।

থাইল্যান্ডে গত বৃহস্পতিবার ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের টনপ্রতি মূল্য ছিল ৫৭০-৫৭৫ ডলার। গত সপ্তাহেও দেশটি থেকে একই মূল্যে চাল রফতানি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, দেশে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। তাই সরবরাহও পর্যাপ্ত ছিল। 

অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, ভিয়েতনামের চালের গুণমান উন্নত হচ্ছে। তাই দাম প্রতিযোগিতামূলক। এছাড়া চাল রফতানিতে ভারত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে কিনা তা দেখার জন্য আগামী কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই।

এদিকে ভিয়েতনামেও চালের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের টনপ্রতি মূল্য ছিল ৫৬০ ডলার, এর আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫৫০-৫৬০ ডলার।  হো চি মিন সিটিভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‌এ মুহূর্তে সরবরাহ বেশি নেই। তবে চালের গুণগত মান বেশ ভালো, তাই দাম কিছুটা বেড়েছে।’"

ভিয়েতনামের সরকারি তথ্যানুযায়ী, ভিয়েতনাম জুলাইয়ে ৬ লাখ ৩০ হাজার টন চাল রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কম। জানুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত দেশটি ৫২ লাখ টন চাল রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া এ সাত মাসে ভিয়েতনামের চাল রফতানি আয় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৩২৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।