চিনির অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ২০২৩-২৪ বিপণন বছরে ঘাটতির মুখে পড়তে পারে ভারত। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি সামলাতে ও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী বছরও চিনি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে পারে দেশটি। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফরেন এগ্রিকালচার সার্ভিস (এফএএস) ২০২৩-২৪ বিপণন বছরের (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে। এ সময় দেশটিতে চিনির মোট উৎপাদন দাঁড়াবে ৩ কোটি ৬০ লাখ টন, যা ৩ কোটি ৩৬ লাখ টন সাদা চিনির সমান। আখের ব্যাপক ফলন হলেও তার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ভারতের ক্রমবর্ধমান ইথানল শিল্পে চলে যাবে। এতে চিনি উৎপাদন কমতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার তুলনায় কম চিনি সরবরাহের আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

এফএএসের প্রতিবেদনে ২০২২-২৩ বিপণন বছরে ভারতের প্রাক্কলিত চিনি রফতানির পরিমাণ বেড়ে ৭৪ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ৬৫ লাখ টন রফতানির প্রত্যাশা করা হয়েছিল, যা ২০২১-২২ মৌসুমের অর্ধেকের সামান্য বেশি। সে সময় প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ টন চিনি রফতানি করেছিল দেশটি। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ও দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রফতানি সীমিত করে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশটি।

এফএএস বলছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির বাজারমূল্য ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ভারত চলতি মৌসুমজুড়ে (২০২৩-২৪) রফতানি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখতে পারে। সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় গত আগস্টেই চলতি মৌসুম থেকে ভোগ্যপণ্যটির রফতানি বন্ধের আগাম ঘোষণা দিয়েছিল নয়াদিল্লি। সাত বছরের মধ্যে এবারই প্রথম চিনি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি। এর আগে ২০১৬ সালে চিনি রফতানিতে ২০ শতাংশ করারোপ করেছিল ভারত। যার মাধ্যমে সরবরাহ কমানোর উদ্যোগ নেয় দেশটি।

কারণ হিসেবে বৈরী আবহাওয়াকে সামনে আনছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। তারা জানাচ্ছেন, ‘‌এ মৌসুমে ভারতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ২০২২ সালের তুলনায় আখের ফলন কম হয়েছে।’ দেশটির শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী রাজ্য উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে বৈরী আবহাওয়ায় আখের ফলন ব্যাহত হয়েছে। ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএমএ) জানায়, আখ বেড়ে ওঠার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টিপাত ছিল না। কিন্তু পরে আবার অতিবৃষ্টি হয়েছে। মূলত এ কারণেই আখ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় চিনি রফতানি বন্ধ থাকলে নিউইয়র্ক ও লন্ডনসহ বিশ্ববাজারে দাম আরো বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিপ্রয়োজনীয় এ রান্না উপকরণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যবাজারে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ বিপণন বছরে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দিয়েছে ব্রোকার ও বাজার বিশ্লেষক স্টোনএক্স। প্রাক্কলন অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ মৌসুমে পণ্যটির উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ লাখ ৯৩ হাজার টনে। তবে অক্টোবরে শুরু হওয়া নতুন বিপণন বছরে উৎপাদনের চেয়ে চাহিদার পরিমাণ ২ লাখ ৯০ হাজার টন বাড়তে পারে। এতে বিশ্ববাজার উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতির দিকে মোড় নেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে চিনির প্রাক্কলিত উৎপাদন ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ১৯ লাখ টন। এ সময় পণ্যটির প্রত্যাশিত চাহিদার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ১৯ কোটি ২২ লাখ টনে। ফলে চিনির বৈশ্বিক চাহিদায় ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

রয়টার্সে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ভারতের উৎপাদন ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যাবে। উৎপাদন দাঁড়াবে তিন কোটি টনে। একই সময়ে থাইল্যান্ডে উৎপাদন ২২ শতাংশ কমে ৮৯ লাখ টনে নামতে পারে। এশিয়ার এ শীর্ষ দুই চিনি উৎপাদক দেশে উৎপাদন কমে গেলে তা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।