দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেড়েছে ভারত থেকে গম আমদানি। তবে আমদানি বাড়লেও বাজারদরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি গমের দাম ৪-৫ টাকা করে বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বন্দরে গম কিনতে আসা পাইকাররা। তারা বলছেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোয় দেশের বাজারে প্রভাব পড়েছে।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে জানুয়ারিতে ১ হাজার ২৮৪টি ট্রাকে ৫৩ হাজার ৪৪ টন গম আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময় ৩৫৫টি ট্রাকে ১৩ হাজার ৪৭৯ টন আমদানি হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ১৪৮টি ট্রাকে ৩৯ হাজার ৪৩২ টন গম আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময় ৪৩৪টি ট্রাকে ১৭ হাজার ১৭ টন আমদানি হয়েছিল।

দেশের ফ্লাওয়ার মিলগুলোয় উৎপাদিত গম দিয়ে চাহিদা না মেটায় বেশ কয়েক বছর ধরে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আমদানি করা হচ্ছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি বন্ধ রয়েছে। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চল দিয়ে অন্য কোন দেশ থেকে পানিপথে আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিকল্প হিসেবে ভারত থেকে গম আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দেশে বাড়তি গমের চাহিদাকে পুঁজি করে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দরে গম কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে হিলি স্থলবন্দর থেকে আমি প্রতি কেজি গম কিনেছি মানভেদে ২৭-২৮ টাকা কেজি দরে। অথচ এখন দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩২-৩৩ টাকায় উঠেছে।

হিলি স্থলবন্দরের গম আমদানিকারক হায়াৎ মোহাম্মদ শেরেগুল বলেন, রমজানকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিলে গমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আমদানি বাড়ছে। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চল দিয়ে গম আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। লোডিং বন্ধ থাকায় ওইসব দেশ থেকে গম আমদানি একপ্রকার বন্ধই রয়েছে। ফলে আমরা ভারত থেকে গম আমদানি করছি। ভারতীয় কিছু রফতানিকারক সিন্ডিকেট করে গমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে যে গম ভারত থেকে টনপ্রতি ৩০৫-৩১০ ডলার মূল্যে আমদানি করতাম, এখন তা ৩৩৯-৩৪৫ ডলারে আমদানি করতে হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গম আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে গত ডিসেম্বরে গম আমদানি কমতির দিকে ছিল। সে সময় গড়ে প্রতিদিন বন্দর দিয়ে ৩০-৪০ ট্রাক করে গম আমদানি হলেও জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আমদানি দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৬০-৭০ ট্রাক করে গম আমদানি হচ্ছে। বাড়তি গম আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়ও বেড়েছে।