পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হীরার বৈশ্বিক উত্তোলনের এক-তৃতীয়াংশই সরবরাহ করছে রাশিয়া। গত বছর শীর্ষ হীরা উত্তোলনকারী দেশ হিসেবেও স্থান করে নিয়েছিল দেশটি। এমন তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের হীরার বাজারবিষয়ক সংস্থা কিম্বারলি প্রসেস। খবর আরটি।
আন্তর্জাতিক সংগঠনটির হিসাবমতে, ২০২২ সালে বিশ্বে মোট হীরা উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার ক্যারেট। এর মধ্যে ৪ কোটি ১৯ লাখ ক্যারেট এসেছে রাশিয়া থেকে, যা মোট উত্তোলনের ৩৫ শতাংশ। ২০০৪ সাল থেকে কিম্বারলি প্রসেস হীরাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে আসছে। সংস্থাটির এ-যাবৎকালের রেকর্ডে থাকা তথ্য বলছে, এর আগে কখনই রাশিয়ার হীরা উত্তোলনের পরিমাণ মোট বৈশ্বিক উত্তোলনের ৩২ শতাংশের বেশি ছিল না।
গত বছর মোট বৈশ্বিক উত্তোলনের মধ্যে ৬ কোটি ১৬ লাখ ক্যারেট এসেছে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে। এখানকার শীর্ষ হীরা উত্তোলনকারী বতসোয়ানা। দেশটি ২০২২ সালে ২ কোটি ৪৫ লাখ ক্যারেট হীরা উত্তোলন করেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরটিতে মোট বৈশ্বিক উত্তোলনের ৯০ শতাংশই এসেছে আফ্রিকা ও রাশিয়া থেকে। তথ্যানুযায়ী, ১ কোটি ৬৩ লাখ ক্যারেট হীরা উত্তোলন করে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দেশের স্থান দখল করেছে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা।
অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম দুই আকর হীরা রফতানিকরাক সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইউরোপ। ইউএই ২০২২ সালে বিশ্ববাজারে ৮ কোটি ৯৪ লাখ ক্যারেট হীরা বিক্রি করেছে, যা বৈশ্বিক রফতানির ২৭ শতাংশ। একই সময়ে ইউরোপের দেশগুলো ৭ কোটি ৫২ লাখ ক্যারেট আকর হীরা রফতানি করেছে, যা মোট বৈশ্বিক রফতানির ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর রাশিয়া থেকে আকর হীরা আমদানি নিষেধাজ্ঞা বা আশিংকভাবে সীমিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জি৭ভুক্ত দেশগুলো নিজস্ব সীমান্ত দিয়ে রুশ হীরা প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি আরোপ করবে বলে জানা গেছে। তবে কবে থেকে তা কার্যকর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব হীরার বাজারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এরই মধ্যে চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর্মেনিয়া ও বেলারুশের মাধ্যমে রাশিয়া পরোক্ষভাবে হীরা রফতানি অব্যাহত রেখেছে।










