দেশের প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল পিভিসি ব্যাগ ও প্লাস্টিক বর্জ্য দেশের বাইরে রফতানি করা। তবে ২০১৮ সাল থেকে চীন প্লাস্টিক বর্জ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এ রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে দেশে প্লাস্টিক দূষণ বেড়েছে বলে ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ২০২২ সালের
সাবস্টিটিউটস ফর সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকস ইন সাব সাহারান আফ্রিকা অ্যান্ড সাউথ এশিয়া: কেস স্টাডিজ ফ্রম বাংলাদেশ, কেনিয়া অ্যান্ড নাইজেরিয়া শীর্ষক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) ২০১৯ সালের জরিপ সূত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকরা প্রতি বছর প্রায় ৮৭ হাজার টন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার করে। এ প্লাস্টিকের ৭৮ শতাংশই ব্যবহার হয় শহরাঞ্চলে এবং ২২ শতাংশ ব্যবহূত হয় গ্রামীণ এলাকায়। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের মধ্যে ৯৬ শতাংশই আসে খাবার ও পার্সোনাল কেয়ার প্রডাক্টের প্যাকেজিং থেকে এবং ৩৫ শতাংশ আসে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ থেকে। এসব প্লাস্টিক কোনোভাবেই পূর্ণ ব্যবহার করা যায় না ও পচনশীলও না বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। অধিকাংশ সিঙ্গেল প্লাস্টিক সঠিকভাবে ডিসপোজ করা হয় না এবং যার ফলে এ প্লাস্টিক মাটি ভরাটের জায়গায়, নদী ও সাগরে গিয়ে পড়ে। ওই জরিপে আরো উঠে এসেছে এয়ারলাইনস, ভালো মানের আবাসিক হোটেল, খাবার হোটেল এবং সুপারমার্কেট থেকে সবচেয়ে বেশি সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক আসে। জরিপে বলা হয়েছে, প্রতি বছর খাবার হোটেলে দুই হাজার টন, এয়ারলাইনস ৬৮৫ টন এবং আবাসিক হোটেল ৬৩৮ টন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার করে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগ পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে মারাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ যেখানে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ২০০২ সালে কিন্তু এ আইন কঠোরভাবে আরোপ না করার ফলে শুধু ঢাকা শহরেই ১ কোটি ৪০ লাখ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহূত হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদিও প্লাস্টিক পণ্য আমদানি করে থাকে, তবে দেশে প্লাস্টিক পণ্যে শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের উৎপাদনকারীদের কাছে দেশের বাজারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তবে সম্প্রতি কিছু লো-এন্ডের প্লাস্টিক পণ্য কানাডা, চায়না, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে রফতানি করা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, বর্জ্য হিসেবে এটা রফতানি হয় না। পিইটি প্রক্রিয়াজাত করে চিপস তৈরি করে রফতানি করা হয়। এখন ভারত, ভিয়েতনাম আমাদের কাছ থেকে এ বর্জ্য নিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের স্থানীয় বাজারেও এর চাহিদা বেড়েছে, যার ফলে রফতানির পরিমাণ কমে গিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রায় দুই মিলিয়ন টন কাঁচামাল আমদানি করি এবং এর সঙ্গে ৩৭ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার পর যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে আমরা ৩০ লাখ টনের মতো কাঁচামাল ব্যবহার করি প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন করার জন্য। তবে এ উৎপাদনের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, চীন আমাদের দেশ থেকে খুব অল্প পরিমাণ প্লাস্টিক রিস্ট্রাকচারিং করার পর নিত এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটা ছিল বোতল। এমনিতেই আমাদের দেশের প্লাস্টিকের ব্যবহার প্রত্যেক দিন বাড়ছে এবং আমরা একটা দিনও কল্পনা করতে পারি না প্লাস্টিকের ব্যবহার ছাড়া। নগরায়ণের কারণেও এর ব্যবহার বাড়ছে। এমনিতেও বৈশ্বিকভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে সাধারণ জনগণের মধ্যে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিকের বিষয়ে সচেতনতা আমরা বৃদ্ধি করতে না পারলে এ দূষণের মাত্রা কমানো যাবে না।










