ভারতে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে স্টেইনলেস ইস্পাতের শীর্ষ সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে চীন। এ সময় প্রতিবেশী দেশটিতে সাড়ে তিন লাখ টন স্টেইনলেস ইস্পাত রফতানি করা হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া আট লাখ টন রফতানির মধ্য দিয়ে ভারতে দ্বিতীয় শীর্ষ পরিশোধিত ইস্পাত সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে বেইজিং। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
ভারতের কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রণালয় জানায়, চীন থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ ইস্পাত আমদানি করা হয়, তার ৪৪ শতাংশই স্টেইনলেস ও অ্যালয়। পাঁচ মাসে এসব পণ্য আমদানি ৭০ শতাংশ বেড়েছে। সরকারি তথ্যমতে, সম্প্রতি চীন থেকে আমদানির পরিমাণ সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে চীন থেকে ৯৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পরিশোধিত ইস্পাত আমদানি করা হয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, এ সময় আধা পরিশোধিত ইস্পাত আমদানি করা হয় ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০০ শতাংশ বেশি।
এদিকে চীন থেকে এমন অস্বাভাবিক আমদানি বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, এতে স্থানীয় ইস্পাত শিল্প ক্ষতির মুখে পড়ছে। চীনের স্টেইনলেস ইস্পাত আমদানির ওপর শুল্কারোপের দাবি জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে দেশটির ইস্পাত মন্ত্রণালয়।
এদিকে চীনের পর জাপান, তাইওয়ান ও ভিয়েতনাম থেকে সর্বাধিক স্টেইনলেস ইস্পাত আমদানি করেছে ভারত। তিন দেশ থেকে আমদানি যথাক্রমে ৬৩, ৬৪৫ ও ৬ শতাংশ।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক। ওয়ার্ল্ড স্টিলের তথ্যমতে, চলতি বছর দেশটিতে ধাতুটির চাহিদা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। আগামী বছর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২ সালেও দেশটির ইস্পাত খাত মূল্যস্ফীতির ধাক্কা খুব ভালোভাবে সামাল নিয়েছে। ওই বছরও চাহিদায় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ইতিবাচক।
ভারত আগস্টে ১ কোটি ১৯ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২২ লাখ টনে। অন্যদিকে, চীন আগস্টে ৮ কোটি ৬৪ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৭১ কোটি ২৯ লাখ টনে।










