শুল্ক আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোয় চাহিদা কমে গেছে ভারতীয় চালের। এতে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো কমেছে দেশটির সেদ্ধ চালের দাম। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশটির ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের রফতানি মূল্য নেমেছে টনপ্রতি ৫১৫-৫২৫ ডলারে। গত সপ্তাহে একই জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ৫১০-৫২০ ডলারে। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে ১০ ডলার। রফতানি শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ক্রেতারা ভারত থেকে চাল ক্রয় স্থগিত করছেন। এতে চাহিদা কমে দামের ওপর নিম্নমুখী প্রভাব ফেলে।

গত সপ্তাহে ক্রেতারা শুল্কের বিষয়ে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দেশটির উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ের রাইস মিলার আকাশ ঝুনঝুনওয়ালা বলেন, ‘‌সরকারের সিদ্ধান্ত আসার পর আমদানিকারকদের মধ্যে চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেছে।’ 

আগস্টে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চাল রফতানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যার মেয়াদ চলতি মাসের ১৫ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশটি রফতানি শুল্কের মেয়াদ নতুন করে বাড়িয়ে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত বহাল রেখেছে।

শুল্ক বাড়ানোর পাশাপাশি ভারত বাসমতী চালের ন্যূনতম রফতানি মূল্য (এমইপি) ১ হাজার ২০০ ডলার বজায় রেখেছে। এর মধ্য দিয়ে বিদেশে রফতানি সীমিত করেছে। তবে নেপাল, ক্যামেরুন, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিশেলস, আইভরি কোস্ট ও গিনি প্রজাতন্ত্রসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশে নন-বাসমতী সাদা চাল রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দামও আগের সপ্তাহে ৫৮০-৬০০ ডলার থেকে কমে প্রতি টন ৫৭৫-৫৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে চাহিদা রয়েছে।’ তবে সাম্প্রতিক ফসল থেকে সরবরাহ মাসের শেষের দিকে আশা করা হচ্ছে। এদিকে ভিয়েতনামের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম প্রতি টন ৬২৫-৬৩০ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬১৫-৬২৫ ডলার। হো চি মিন শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘গ্রীষ্ম-শরৎকালীন ফসল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে।’

প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, ১ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে হো চি মিন সিটি বন্দরে ২ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টন চাল লোড করার কথা রয়েছে। যার বেশির ভাগই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও কিউবায় যাবে।