আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল আবারো কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। চাহিদা কমার আশঙ্কায় বাজারদরে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।
আইসিই ফিউচারসে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বা ১ ডলার ৫১ সেন্ট কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৯ ডলার ৪১ সেন্টে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ৫৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৭ ডলার ৬৪ সেন্টে।
বিশ্বের শীর্ষ দুই জ্বালানি তেল উত্তোলক ও সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরব ও রাশিয়া। দেশ দুটি জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য বাড়াতে বেশ কয়েক মাস ধরেই এককভাবে উত্তোলন কমাচ্ছে। উত্তোলন কমানোর নীতিতে চলছে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস। রাশিয়া ও সৌদি আরব গতকাল চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত প্রতি মাসে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকার ঘোষণা দেয়। কিন্তু এতে দাম না বেড়ে উল্টো কমেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান সংকটে জ্বালানি তেলের চাহিদা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এ কারণে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা সত্ত্বেও দাম কমেছে।
বিশ্লেষকরা জানান, বর্তমানে স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ সংকটের পরিবর্তে বাজার পর্যবেক্ষকদের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মুদ্রা সংকোচন নীতি। যুক্তরাষ্ট্রসহ শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলো লম্বা সময় ধরে সুদহার ঊর্ধ্বমুখী রাখলে জ্বালানি তেলের বাজার আরো নিম্নমুখী চাপে পড়তে পারে। অন্যদিকে, আগামী মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ওপেক প্লাস কী পরিকল্পনা হাতে নেবে, তার ওপরও বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় গতকাল জানায়, আগামী বছরের শেষ পর্যন্ত দেশটি এককভাবে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাবে। অন্যদিকে রাশিয়া জানায়, বছরের শেষ পর্যন্ত দেশটি প্রতিদিন তিন লাখ ব্যারেল করে রফতানি কমানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। এপ্রিল থেকে দেশটি প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমাচ্ছে। নভেম্বরে এ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে। আগামী দিনগুলোয় দেশটি ডিজেল রফতানিতে দেয়া নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওপেক প্লাসের সদস্য দেশগুলোর দৈনিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ২৫ লাখ ব্যারেল করে কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলসহ জোটের বাইরের দেশগুলোর উত্তোলন ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরানের উত্তোলনও বাড়ছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে।










