এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়েছে। গত সাত মাসে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে পণ্যটির দাম। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে, যা এলএনজির দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও জ্বালানি পণ্যটির দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য ১২ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছে, যা গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১২ ডলার।

এ বিষয়ে ডাটা ইন্টেলিজেন্স ফার্ম আইসিআইএসের সিনিয়র এলএনজি বিশ্লেষক অ্যালেক্স ফ্রোলি বলেন, ‘গত সপ্তাহের শেষ থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে প্রতি এমএমবিটিইউতে এলএনজির দাম প্রায় ১ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। জাপানে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে গেছে। এছাড়া ব্যবসায়ীরাও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার দিকে নজর রাখছেন।’

কমোডিটি প্রাইসিং এজেন্সি আরগাসের এলএনজি প্রাইসিংয়ের প্রধান স্যামুয়েল গুড বলেন, ‘‌জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অতিরিক্ত তাপমাত্রায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। এতে টার্মিনালে এলএনজির মজুদ কমেছে। যদিও দেশগুলোয় এলএনজির চাহিদা কেমন হতে পারে তা এখনো নির্দিষ্ট করা সম্ভব হয়নি।’

ইরানে হামাস নেতার হত্যার পর গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিজেড এনার্জির চিফ এনার্জি ইকোনমিস্ট হ্যান্স ভ্যান ক্লিফ বলেন, ‘‌আগামী মাসগুলোয় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে এলএনজির সরবরাহের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা প্রিমিয়াম বাড়িয়েছেন।’

ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে গত বৃহস্পতিবার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় দাম স্থির হয়েছে ১১ ডলার ৪৭৫ সেন্টে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভার্চুয়াল ট্রেডিং পয়েন্ট টিটিএফে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে দশমিক ১৭ ডলার ছাড় দেয়া হয়েছে।

আরগাস আগস্টে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১১ ডলার ৫০ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ আগস্টে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১১ ডলার ৬১৩ সেন্ট, যা গত ডিসেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ।

বিশ্ববাজারে এলএনজি বেশ কয়েক মাস ধরেই ১২ ডলার বা তার ওপরে বেচাকেনা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় তাপমাত্রা বৃদ্ধি। অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে বাঁচতে এ অঞ্চলে এয়ারকন্ডিশনার থেকে শুরু করে অন্যান্য বিদ্যুচ্চালিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে। বাড়তি চাহিদা মেটাতে এশিয়ার দেশগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে এলএনজির চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে রয়টার্স সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাড়তি চাহিদার কারণে এলএনজি রফতানিকারকরা সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে, যার কারণে স্পট মার্কেটে বেড়ে যেতে পারে এ জ্বালানি পণ্যের দাম। এরই মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল-মে পর্যন্ত এলএনজির দাম আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।