ভারতে চলতি বছরের জুলাইয়ে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল আমদানি বেড়েছে। গত এক বছরে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে ভোজ্যতেলগুলোর আমদানি। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং ভারত সরকার আমদানি শুল্ক বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় দেশটির পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো ভোজ্যতেল আমদানি বাড়িয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের ছয়জন ডিলার এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ডিলারদের অনুমান অনুসারে, জুলাইয়ে ভারতের পাম অয়েল আমদানি এর আগের মাসের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় আমদানি পৌঁছেছে ১০ লাখ ৯০ হাজার টনে, যা গত বছরের আগস্টের পর থেকে সর্বোচ্চ। এছাড়া জুলাইয়ে ভারতের সয়াবিন তেল আমদানি এর আগের মাসের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। আমদানি পৌঁছেছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার টনে, যা ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্বের বৃহত্তম উদ্ভিজ্জ তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। দেশটির সাম্প্রতিক পাম অয়েল আমদানি বৃদ্ধিতে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মজুদ কমতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
উদ্ভিজ্জ তেলের ব্রোকারেজ সানভিন গ্রুপের সিইও সন্দীপ বাজোরিয়া বলেন, ‘বাজেটে শুল্ক বৃদ্ধির আশঙ্কায় পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের আমদানি বেড়েছে।’
ডিলারদের অনুমান অনুযায়ী, পাম অয়েল ও সয়াবিনের আমদানি বৃদ্ধি দেশের মোট ভোজ্যতেল আমদানি ২১ শতাংশ বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টনে উন্নীত করেছে, যা রেকর্ড দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া গত বছরের নভেম্বরে শুরু হওয়া বর্তমান বিপণন বছরে ভারত গড়ে এখন পর্যন্ত মোট ১২ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছে।
তবে ডিলাররা জানিয়েছেন, জুলাইয়ে সূর্যমুখী তেলের আমদানি এর আগের মাসের তুলনায় ২২ শতাংশ কমেছে। এ সময় দেশটির আমদানি পৌঁছেছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার টনে।
এদিকে গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট পেশ করেন। যদিও সে বাজেটে তিনি ভোজ্যতেলের ওপর শুল্ক কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন করেননি।
ভারত প্রধানত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে পাম অয়েল আমদানি করে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেল আমদানি করে।












