সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি সেপ্টেম্বরে বেড়ে চার মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। দেশটির রফতানিতে বিধিনিষেধ শিথিল করায় এমন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। আগের মাসে রফতানি কমে ১১ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস। 

রাশিয়া সম্প্রতি স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল, ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর পরও রফতানি বৃদ্ধিকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটিজের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বরে দেশটি প্রতিদিন গড়ে ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে, যা আগস্টের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের জুনের পর এটিই সর্বোচ্চ রফতানি। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগে রাশিয়া প্রতি মাসে গড়ে দৈনিক ৩১ লাখ ব্যারেল করে রফতানি করত। সে হিসেবেও রফতানি বেড়েছে।

রাশিয়া গত মে থেকে জুন পর্যন্ত গড়ে দৈনিক ৩৭ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে। আগস্টে দেশটি দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল করে রফতানি কমানোর ঘোষণা দেয়। সে হিসেবে গড়ে দৈনিক রফতানি নেমে আসে ৩২ লাখ ব্যারেলে। তবে গত মাসে এ বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়। দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেলের পরিবর্তে রফতানি দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল করে কমানো হয়। মূলত এ বিষয়ই রফতানি প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।  

ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার ওপর বেশ কয়েক ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা দেশগুলো। এ ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছরের শেষ দিকে দেশটি থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ ঘোষণা করে। এটির ওপর দেয়া হয় প্রাইস ক্যাপও (সর্বোচ্চ মূল্যসীমা)। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া জ্বালানি তেল রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নতুন ক্রেতা খুঁজতে শুরু করে। এশিয়ার দেশগুলোয় বাড়াতে থাকে রফতানি। অন্যদিকে রুশ জ্বালানি তেলে আকর্ষণীয় মূল্যছাড় থাকায় চীন, ভারতসহ এশিয়ার ক্রেতা দেশগুলো রাশিয়া থেকে আমদানি বাড়িয়ে দেয়। 

বর্তমানে রুশ জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশে পরিণত হয়েছে ভারত। যদিও গত মাসে দেশটিতে রফতানি কমে ১০ মাসের সর্বনিম্নে নেমে যায়। তবে চীন, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এখনো রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। 

তথ্য বলছে, গত মাসে রাশিয়ার পরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। আগস্টে দেশটি প্রতিদিন ২৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল করে রফতানি করে। সেপ্টেম্বরে তা সামান্য বেড়ে দৈনিক ২৩ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছে।