ফিউচার মার্কেটে নিম্নমুখী প্রবণতা পার করছে পাম অয়েল। মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ বাড়ায় এবং ভারত থেকে আমদানি কমে যাওয়ায় দাম কমেছে ভোজ্যতেলটির। তবে চীনা চাহিদার কারণে লোকসান সীমিত হয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার আদর্শটির দাম কমেছে ৪ রিঙ্গিত বা দশমিক ১ শতাংশ। প্রতি টনে দাম নেমেছে ৩ হাজার ৭৭৯ রিঙ্গিত বা ৭৯৯ ডলার ৬২ সেন্টে।

সম্প্রতি রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, অক্টোবরের শেষে মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের মজুদ ২০১৯ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চে উঠেছে। অন্তত ছয়জন ডিলার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শীর্ষ আমদানিকারক ভারত থেকে অক্টোবরে পাম অয়েল আমদানির পরিমাণ ১৬ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। গত জুলাই-আগস্টে ব্যাপক মজুদ বাড়ানোয় দেশটির পরিশোধনকারীরা এখন আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।

ভারত ক্রয় কমালেও অন্যান্য দেশের পরিশোধন কারখানাগুলোর মজুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। শীর্ষস্থানীয় বাজার বিশ্লেষক থমাস মিলকে মনে করেন, আবহাওয়ায় এল নিনোর বৈরী প্রভাব ও উচ্চ চাহিদার কারণে আগামী বছর বিশ্বব্যাপী উদ্ভিজ্জ তেল সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

শিল্প বিশ্লেষক দোরাব মিস্ত্রি বলেন, ‘আগামী বছর মালয়েশিয়ান পাম অয়েল উৎপদনের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও ইন্দোনেশিয়ায় উৎপদন কমে যাবে। বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক দেশটিতে আগামী বছর অন্তত ১০ লাখ টন উৎপাদন কমে যেতে পারে।’

ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইসি করিম গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাম অয়েলের ‌অভ্যন্তরীণ বাজার বাধ্যবাধকতা (ডিএমও) অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেলে গত বছর ডিএমও নীতি আরোপ করা হয়। এতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটার পরই উদ্বৃত্ত পাম অয়েল রফতানি করা যাবে।