কোরবানি ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল চাল, ডাল, মসলাসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজার। বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার কারণে এসব পণ্যের দাম এখনো স্থিতিশীল আছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল পর্যন্ত চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রভাবে দাম বাড়া বা কমার ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আন্দোলন আরো কিছুদিন অব্যাহত থাকলে বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন চলমান থাকলে দাম বাড়তে পারে চাল-ডালসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন পণ্যের আড়ত ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে গতকাল মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৬৬-৬৮ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪৪-৫৮ টাকা ও নাজিরশাইল ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের পর থেকে এ দামেই বিভিন্ন জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে বাজারের পাইকারি বিক্রেতা হাজি রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মাইন উদ্দিন মানিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঈদের পর থেকে চালের দাম বাড়েনি বা কমেনি। চালের পর্যাপ্ত মজুদও আছে। তাই চলমান আন্দোলন বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। সাধারণত এ রকম পরিস্থিতির প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে বাজারে পড়ে না। তবে কিছুদিন পর তা বোঝা যাবে।’
চালের আরেক পাইকারি বিক্রেতা জনপ্রিয় রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সাধারণত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শেরপুর, নওগাঁ থেকে চাল কিনি। আন্দোলনের কারণে কয়েক দিন ধরে চাল পরিবহন ব্যাহত হলেও এখনো দামে প্রভাব পড়েনি। কারণ আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তবে মজুদ শেষ হওয়া নাগাদ যদি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে না আসে, তাহলে দাম বাড়তে পারে।’
অন্যদিকে কারওয়ান বাজারে গতকাল কেজিপ্রতি দেশী মসুর ডাল ১৩০ টাকায়, অ্যাংকর ৮০, মোটা মুগডাল ১৪০, সোনামুগ ১৭০, মিডিয়াম মুগডাল ১৬০, ডাবলি ৮০ ও ছোলাবুট ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সোনামুগ ডালের দাম ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য ডালের দাম ঈদের পর থেকে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কারওয়ান বাজারের সততা জেনারেল স্টোরের মালিক মো. শাওন জানান, সাধারণত আমদানিকারকরা ডালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। বর্তমানে পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত ডাল মজুদ আছে। ফলে রাজধানীতে ডালের দামে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রভাব এখনো পড়েনি।
কারওয়ান বাজারে মসলাপণ্যের দামও স্থিতিশীল আছে। গতকাল প্রতি কেজি জিরা ৭০০, দারচিনি ৪৮০, এলাচ ৩ হাজার ২০০, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০, গোলমরিচ ৮৫০ ও শুকনা মরিচ ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারের হাজি স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কোরবানির ঈদ ঘিরে মসলার দাম বেড়ে গিয়েছিল। তবে ঈদের পর তা ক্রমান্বয়ে কমে এসেছে।’
তবে সামগ্রিকভাবে মসলাপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও এলাচের দাম ঊর্ধ্বমুখী। চলতি বছরের রমজানে কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া মসলাপণ্যটির বর্তমান দাম ৩ হাজার ২০০ টাকা।










