বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার কৃষি উৎপাদনে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০৬৪ সাল নাগাদ কৃষিজ ফলন বর্তমানের চেয়ে অন্তত ৪ শতাংশ কমে যাবে। এ সময়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় কোনো কর্যকরী পদক্ষেপ না নেয়া হলে দেশটির জিডিপির পরিমাণও কমে যাবে। এমন পূর্বাভাস দিয়ে গতকাল অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জিম চালমারস বলেছেন, ‘এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক জিডিপির আকার কমতে পারে ১৮০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার।’ খবর রয়টার্স।

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃষিপণ্য রফতানিকারক। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ায় দেশটির আবহাওয়া দিনকে দিন চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠছে। ২০২২ সালে অতি বৃষ্টিপাতের পর এ বছর দেখা দিয়েছে অনাবৃষ্টি সমস্যা। রেকর্ড তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে এ বছর গমের প্রত্যাশিত উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়েছে।

খরার সমস্যা নিয়ে আয়োজিত কুইন্সল্যান্ডে এক কৃষি সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী চালমারস বলেন, ‘‌অর্থ বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন আমাদের জানাচ্ছে— দুর্যোগ ও উষ্ণ জলবায়ু অর্থনীতিতে বড় ও সুদূরপ্রসারি প্রভাব ফেলে। কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হলে ২০৬৪ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার শস্য উৎপাদন ৪ শতাংশ কমে যাবে। এ পরিমাণ শস্য হারানোর অর্থ হচ্ছে জিডিপি থেকে বর্তমান মূল্যে ১৮০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার নেই হয়ে যাওয়া।’

চালমারস জানান, ২০১৯ সালের দাবানাল ও গত বছরের বন্যা—এ দুটোর সময়ই সরকার প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করে খরচ করেছে। পাশাপাশি আগামীর প্রস্তুতি হিসেবে ডিকার্বনাইজেশন, খরা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগ পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে সরকার বিনিয়োগ করছে।