দেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে কমপ্লিট শাটডাউন ও কারফিউর কারণে পাইকারি বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণত বাজারে ক্রেতা সংকট থাকলে পণ্যের দাম কমে যায়। কিন্তু স্থিতিশীল অথবা কমতির দিকে না থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে বাড়তে শুরু করেছে চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ বেশকিছু ভোগ্যপণ্যের দাম। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। পরিবহন সংকটে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে গতকাল সরজমিনে জানা গেছে, এখানে চাল, ডাল, পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে বেড়েছে কেজিতে ৬-৭ টাকা। খুচরায় বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। বৃহস্পতি ও শুক্রবার পাইকারিতে প্রতি কেজি আমদানীকৃত ও দেশী পেঁয়াজ ৮৭-৮৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামসহ অন্যান্য খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ গতকাল কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে গতকাল পাইকারিতে ডালের দাম কেজিতে দেড় থেকে ২ টাকা বেড়েছে। চালের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১০০-২০০ টাকা। এর মধ্যে শুধু একদিনের ব্যবধানে চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৫০ টাকা।

এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের মেসার্স মামুন অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী গৌতম রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। টানা কয়েক দিন সরবরাহ না থাকা, পুনরায় কখন সরবরাহ শুরু হতে পারে সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কারণে চাল-ডালসহ কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌পরিবহন সংকটে খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজারে আসছেন না। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে হঠাৎ বাড়তি চাহিদায় পণ্যবাজার অস্থিতিশীল হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে এখন থেকেই ডিলার, মজুদদার ও আমদানিকারক পর্যায় থেকে কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে।’

পণ্য পরিবহনে স্থিতিশীলতা না ফিরলে প্রধান ভোগ্যপণ্যগুলোর দাম অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে নিত্য ভোগ্যপণ্যের মধ্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও গমের দামের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। খাতুনগঞ্জের ট্রেডিং ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল এসব পণ্যের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্রেতা ছিল না। সীমিত আকারে আগের দামেই এসব নিত্যপণ্য বেচাকেনা হয়েছে। মূলত বাজারে মোড়কজাত কোম্পানিগুলো (বোতল ও প্যাকেটজাত) ভোজ্যতেল, চিনি ও আটা-ময়দার সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে এখনো পণ্যগুলোর দাম বাড়েনি।

গতকাল খাতুনগঞ্জে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতা না থাকলেও আড়ত খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। সারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্যের ক্রয়াদেশ আসতে পারে এমন আশায় আড়ত খোলেন তারা। যদিও কিছুক্ষণ পর আশানুরূপ ক্রেতা না থাকায় ব্যবসায়ীরা চলে যান।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, খাতুনগঞ্জ থেকে সারা দেশ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করে। প্রতিদিন ২০০-৩০০ ট্রাক পণ্য সরবরাহ করা হয়। তবে কয়েকদিন এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্রয়াদেশ আসেনি। তবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, কক্সবাজারসহ নৌপথে পণ্য সরবরাহ করা যায় এমন অঞ্চলে সীমিত আকারে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তাছাড়া রোববার সকাল ১০টার পর কারফিউ শিথিল হলে পণ্য সরবরাহের আশায় চাল-ডালসহ অন্যান্য পণ্যের লেডিং বাড়িয়েছেন ক্রেতা-ব্যবসায়ীরা। যার কারণে কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স মাতৃভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী হারাধন মহাজন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে পাইকারিতে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন বন্দরসহ গুদাম থেকে পণ্য পাইকারি বাজারে প্রবেশ করেনি। এ কারণে চাল-ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বাজার আরো অস্থিতিশীল হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌পরিস্থিতি সংকটময় হলেও নিত্যপণ্যের বাজারে সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা উচিত। প্রয়োজনে পুলিশ ও আইনি সহায়তায় পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি মজুদ পণ্যের দাম যেন না বাড়ে, সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।’