কানাডার প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। এসব পণ্যের আওতায় রয়েছে অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়, কিছু দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেল। এর আগে কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের জবাবে এসব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। খবর এপি।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি ডলারের পণ্য বাণিজ্যের তুলনায় নিষিদ্ধ পণ্যের পরিমাণ খুবই কম।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। কানাডার পণ্য আমদানিতে এ পদক্ষেপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাণিজ্যযুদ্ধকে আরো এক ধাপ বাড়াল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন করে বিরোধ শুরু হয় চলতি গ্রীষ্মে। তখন মহামন্দার সময়কার একটি আইন ব্যবহার করে কানাডার প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ ছিল কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ, গাড়ি ও অ্যালকোহল জাতীয় পণ্য উৎপাদকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
এর জবাবে কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যে ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। কানাডার পাল্টা শুল্কের জবাব দিতে এবার দেশটির কিছু পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। গতকাল এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে কিছু দুগ্ধপণ্যও। এর মধ্যে রয়েছে দুধ উৎপাদনের উপজাত ‘হুই’। কানাডার মোটরসাইকেলও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।
তবে অর্থনীতিতে এর প্রভাব খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্যাট্রিক চাইল্ড্রেসের মতে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা পণ্যগুলো এরই মধ্যে ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের আওতায় ছিল। ফলে এসব পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যত আমদানি নিরুৎসাহিত করছিল। অনেক ক্ষেত্রে কানাডা থেকে এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আনা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের বাণিজ্যনীতি বিভাগের পরিচালক জ্যাকব জেনসেনের হিসাবে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে প্রায় ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্য। ২০২৫ সালের বাণিজ্য তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ পণ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশই অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়। এর আগে কানাডার কয়েকটি প্রদেশ ট্রাম্পের পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় দোকানের তাক থেকে সরিয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এসব পণ্যকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।










