আবাসন খাতে বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক পুঁজিপ্রবাহ ও পর্তুগালের উন্নত জীবনযাত্রার মান এ প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে। পাঁচ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে পর্তুগালে অতিধনী মানুষের সংখ্যা ৭২৫ জন বেশি।

ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্রাঙ্কের প্রাইম ইন্টারন্যাশনাল রেসিডেন্সিয়াল ইনডেক্স শীর্ষক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্তুগালে অতিধনী বা ইউএইচএনডব্লিউআই অর্থাৎ কমপক্ষে ২৫ মিলিয়ন ইউরোর নিট সম্পদের মালিকদের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালে পর্তুগালে ধনকুবেরের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৬২ জন। নাইট ফ্রাঙ্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২ হাজার ১৮৭ জনে পৌঁছতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিধনী ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই বিদেশী নাগরিক। তারা মূলত জীবনযাত্রার মান, চমৎকার আবহাওয়া, নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনশৈলীর কারণে পর্তুগালকে বেছে নিয়েছেন। এছাড়া বিগত বছরগুলোয় প্রবর্তিত গোল্ডেন ভিসা এবং নন-হ্যাবিচুয়াল রেসিডেন্ট ট্যাক্স সুবিধার মতো কিছু নীতি পর্তুগালকে আকর্ষণীয় করে তোলে। ২০০৯ সালে চালু হওয়া এনএইচআর স্কিমটি বিদেশী পেনশনভোগী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ১০ বছরের জন্য বড় কর সুবিধা দিত।

তবে বর্তমানে সুবিধাটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন পেশার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে গোল্ডেন ভিসার ক্ষেত্রেও আবাসন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

নাইট ফ্রাঙ্কের মতে, নিয়মের এ পরিবর্তন আন্তর্জাতিক চাহিদা কিছুটা কমিয়ে দিলেও পর্তুগালের আকর্ষণ পুরোপুরি কমাতে করতে পারেনি।

পর্তুগালের অতিধনীরা সবাই বিদেশী নন। তাদের মধ্যে অনেক পর্তুগিজ ব্যবসায়ীও রয়েছেন। পর্তুগালের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক কারেগোসার প্রাইভেট ব্যাংকিংয়ের সমন্বয়কারী পরিচালক হেলেনা সেরুকা জানান, কভিড-১৯-পরবর্তী সময় অনেক পর্তুগিজ উদ্যোক্তা তাদের কোম্পানির বড় অংশ বিক্রি করে বিপুল নগদ অর্থ অর্জন করেন। মূলত জুতা, টেক্সটাইল, কাচ, প্লাস্টিক, কাঠ ও নতুন প্রযুক্তির মতো উৎপাদনশীল ও সেবা খাতের ব্যবসায়ীরাই এ তালিকায় রয়েছেন।

মহামারীর পর বিশ্বজুড়ে ‘ডিজিটাল নোমাড’ বা দূরবর্তী কর্মজীবী (রিমোট ওয়ার্কার) মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। অনেক ধনী পেশাজীবী পর্তুগালে গিয়ে দূর থেকে কাজ শুরু করেন ও পরবর্তী সময়ে দেশটিতে স্থায়ীভাবে থেকে যান। তারা পর্তুগালেই নতুন ব্যবসা চালু করছেন।—ইউরো নিউজ অবলম্বনে