ইন্দোনেশিয়ায় এক মাসের ব্যবধানে অপরিশোধিত পাম অয়েল উৎপাদন কমেছে। আগস্টে দেশটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টন উৎপাদন করে, জুলাইয়ে যা ছিল ৪৩ লাখ ৬০ হাজার টন। তবে উৎপাদন কমলেও মজুদ কিছুটা বেড়ে ৩২ লাখ ৪০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। দেশটির পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন (জিএপিকেআই) সম্প্রতি এ তথ্য জানায়। 

আগস্টে দেশটির পাম অয়েল রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কমেছে বলে জানায় জিএপিকেআই। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭০ হাজার টনে। 

চলতি বছর ইন্দোশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন ৫ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বছর শেষে পণ্যটির মজুদ দাঁড়াতে পারে ৩২ লাখ টনে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক। জিএপিকেআইয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটিতে ৪ কোটি ৯০ লাখ টন পাম অয়েল উৎপাদন হতে পারে। পাশাপাশি ৪৭ লাখ টন পাম কার্নেল অয়েল উৎপাদনেরও প্রত্যাশা করছে দেশটি। 

জিএপিকেআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল এম হাদি সুগেং বলেন, ‘‌এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর পাম অয়েল সংগ্রহ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পরও উৎপাদন নিয়ে আমরা আশাবাদী।’

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ফ্যাটের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ইন্দোশিয়ার পাম অয়েল বাণিজ্যকে আরো গতিশীল করছে। কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বিষয়টি পাম অয়েল উৎপাদন প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক। দেশটি চীনের বাজারে সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল রফতানি করে। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে দেশটির রফতানি কিছুটা কমে গিয়েছিল। বর্তমানে রফতানি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আগামী বছর চীন ইন্দোনেশিয়া থেকে ৮০ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএমআরসি গ্রুপ জানায়, ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল বাজারের আকার ছিল ১ হাজার ১২ কোটি ডলার। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি ১ হাজার ২৮৪ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে। ২০২৩-২৮ পর্যন্ত বাজার প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশে।