ভারত সরকার সম্প্রতি স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে।  শুল্ক কমানোর পর দেশটিতে নিম্নমুখী হয়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। গত সপ্তাহে দাম কমে গত চার মাসে সর্বনিম্নে নেমেছে। এদিকে দাম কমে যাওয়ায় ভারতে ব্যাপক হারে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে গত শুক্রবার প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের আনুষ্ঠানিক মূল্য ছিল ৬৭ হাজার ৭৫০ রুপি। গত মাসে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৭৪ হাজার ৭৭৭ রুপিতে পৌঁছেছিল। তবে গতকাল দেশটিতে স্বর্ণের দাম আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণ বেচাকেনা হয়েছে ৬৯ হাজার ৮২০ রুপিতে।

এ বিষয়ে কলকাতার জেজে গোল্ড হাউজের স্বত্বাধিকারী হার্শাদ আজমেরা বলেন, ‘বৈশ্বিক মূল্য সংশোধন ও আমদানি শুল্ক কমানোয় স্বর্ণের দাম ব্যাপক হারে কমেছে। দাম কমার অপেক্ষায় থাকা অনেক ক্রেতা এখন স্বর্ণ ক্রয় বাড়িয়েছেন।’

ভারতে স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে ধাতুটির প্রিমিয়াম বা উপরিযোজিত মূল্য বেড়ে গত এক দশকে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। স্বর্ণের আনুষ্ঠানিক মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে ডিলাররা যে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করেন, তা-ই উপরিযোজিত মূল্য। এর মধ্যে আমদানি ও বিক্রি শুল্ক অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ব্যবহারকারী ও অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক। দেশটির স্বর্ণের ডিলাররা বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের আনুষ্ঠানিক মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত ২০ ডলার আদায় করছেন, যা ২০২৪ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রি শুল্ক। গত সপ্তাহে ৬৫ ডলার পর্যন্ত মূল্যছাড়ে স্বর্ণ বিক্রি করেন ডিলাররা, যা ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

স্বর্ণের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীন। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে স্বর্ণের দাম দুই বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। দেশটির ডিলাররা আন্তর্জাতিক স্পট মূল্যের ওপর ১০ ডলার পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছেন। আর উপরিযোজিত মূল্য আদায় করছেন ২ ডলার। এর আগের সপ্তাহে মূল্যছাড়ের পরিমাণ ছিল ৬ ডলারের বেশি।

মূল্যবান ধাতব পণ্যের বিপণন প্রতিষ্ঠান এমকেএস পিএএমপির চীনের আঞ্চলিক পরিচালক বার্নার্ড সিন বলেন, ‘‌চীনের বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। গত জানুয়ারি থেকে পুঁজিবাজার খারাপ সময় পার করছে। বিনিয়োগকারীরা নীতিনির্ভর পুনরুদ্ধারে আস্থা হারাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বিনিয়োগ থেকে লাভের আশা করছেন তারা। ফলে মূল্যবান ধাতুটির বিক্রি বাড়তে পারে।

অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ ডলার মূল্যছাড়ে এবং ২ ডলার ২০ সেন্ট উপরিযোজিত মূল্য আদায়ে বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে হংকংয়ে ১ ডলার মূল্যছাড় এবং ১ ডলার ১০ সেন্ট উপরিযোজিত মূল্যে বিক্রি হয়েছে।

জাপানের ব্যবসায়ীরা ৩ ডলার পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছেন। টোকিওভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশটিতে বিদেশী এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম বেড়েছে।