বেনাপোল বন্দরে আমদানীকৃত পণ্য রাখা নিয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল কাঁচামাল ও পণ্য খালাসের কার্যক্রম ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে সরিয়ে টিটিবিআই মাঠে নিতে বন্দরকে চিঠি দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসের এ সিদ্ধান্তের বিরোধী। এতে মারাত্মকভাবে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল সকালে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বেনাপোল স্থলবন্দরকে একটি চিঠি দিয়ে কাঁচামাল খালাসের কার্যক্রম বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে সরিয়ে টিটিবিআই মাঠে নেয়ার নির্দেশনা দেন। জানা যায়, বেনাপোল বন্দরের যে পণ্য আমদানি হয় তার বড় একটি অংশ হলো খাদ্যদ্রব্য, জাতীয় বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল, যা থেকে প্রতিদিন সরকারের প্রায় আড়াই-তিন কোটি টাকা রাজস্ব আসে। কাঁচামাল খালাসের জন্য বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড রয়েছে। যেখানে ঝড়, বৃষ্টি থাকলেও পণ্য খালাস করতে যাতে অসুবিধা না হয় তার জন্য টিনের ছাউনি দিয়ে শেড নির্মাণ এবং শ্রমিকদের বিশ্রামের জন্য স্থান রয়েছে। রয়েছে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অফিস। কিন্তু হঠাত্ করে কাস্টম হাউজ সিদ্ধান্ত নেয় ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে আমদানীকৃত মোটরসাইকেল রাখা হবে। আর টিটিবিআই নামে খোলা আকাশের নিচে ইয়ার্ডে কাঁচামাল খালাস করা হবে। কাস্টমস এ নিয়ে বন্দরকে চিঠিও দেয়।

তবে কাস্টমসের এমন হঠকারিতামূলক সিদ্ধান্তের বাদ সাধে বন্দর কর্মকর্তারা। বন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরাও কাস্টমসের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কাঁচামালের মাঠে মোটরসাইকেল নামানোর কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে কাস্টমস আর বন্দরের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। কাস্টমস চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের। আর বন্দর আইন ও যুক্তি দেখিয়ে এমন অনিয়মের বিরোধিতা করছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সাজেদুর রহমান জানান, বন্দরের এক একটি ইয়ার্ড পণ্য খালাসের সুবিধায় আলাদাভাবে তৈরি করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন না করে হঠাত্ এক জায়গায় নামানোর পণ্য আরেক জায়গায় খালাস করা হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিষয়টি দুপক্ষের বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বেনাপোল বন্দরের শেডে পণ্য রাখা নিয়ে কাস্টমস, বন্দর ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সভা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই, যাতে ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট না হয়।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, কাঁচামাল খালাসের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড তৈরি করা। অবকাঠামোহীন খোলা মাঠে কীভাবে খাদ্যদ্রব্য, জাতীয় পণ্য খালাস হবে? এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ে এ বন্দর ছাড়বেন। এছাড়া বন্দরের আইন লঙ্ঘন হবে। এক্ষেত্রে পণ্য খালাসের সুবিধার্থে বন্দরে নতুন ওয়্যারহাউজ নির্মাণ আর অবকাঠামো বাড়ানো যেতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে বেনাপোল কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম জানান, বৃহত্তর বাণিজ্যের স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কাঁচামালের চেয়ে মোটরসাইকেলে সরকারের অনেক বেশি রাজস্ব আসবে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।