আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশ কমেছে। জ্বালানি তেল উত্তোলনকারীদের জোট ওপেক প্লাসের বৈঠক স্থগিত হওয়ার খবরে বাজারে নিম্নমুখী প্রভাব পড়েছে। বৈঠকে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত আরো কত সময় বহাল রাখা হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে আফ্রিকার দেশগুলো উত্তোলন কমানোর সময়সীমা আরো বাড়ানোর বিরোধিতা করতে পারে। এমন আশঙ্কায় বৈঠক বিলম্বিত হচ্ছে বলে বাজারে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। খবর রয়টার্স।

আইসিই ফিউচার্সে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ১ শতাংশ বা ৮৫ সেন্টে কমেছে। ব্যারেলপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮১ ডলার ১১ সেন্টে। আগের দিন বুধবারও মূল্য হারিয়েছে পণ্যটি। ওইদিন প্রায় ৪ শতাংশ দরপতন ঘটে জ্বালানি তেলের। এদিকে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলে ৭১ সেন্ট কমে মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৬ ডলার ৩৯ সেন্টে। আগের দিন ডব্লিউটিআইর দাম ৫ শতাংশ কমেছে।

ওপেক ও নন-অপেক দেশগুলোর সম্মিলিত ফোরাম ওপেক প্লাস জোটের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ২৬ নভেম্বর। এ বৈঠকে জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রধানত আফ্রিকার তিনটি দেশ উত্তোলনের মাত্রা নিয়ে একমত হতে পারেনি। অ্যাঙ্গোলা, কঙ্গো ও নাইজেরিয়া ২০২৪ সালে দৈনিক উত্তোলন বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

অ্যাঙ্গোলা ও কঙ্গো তাদের ২০২৪ সালের উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম উৎপাদন করছে। অন্যদিকে নাইজেরিয়া তেলসমৃদ্ধ নাইজার ডেল্টায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নতি করতে পেরেছে। এ কারণে দেশটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছে।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট বলেন, ‘‌আমরা মনে করি ওপেকের দীর্ঘদিনের সদস্য পদের মর্যাদা দিতে ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নাইজেরিয়া সিদ্ধান্ত মানতে পারে। তবে অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে ব্যবধানটি পূরণ করা আরো কঠিন হতে পারে। কারণ ২০০৭ সালে ওপেক জোটে যোগদানের পর থেকে তারা ভিন্ন মেজাজি সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।’

তেল ব্রোকার পিভিএমের তামাস ভার্গা সতর্ক করেছেন, যদিও ওপেকপ্লাস এর আগে কার্যকরভাবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে। তবে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ওপেকপ্লাসের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছনো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। তবে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আগামী বৃহস্পতিবারের আগেই দাম ১০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

ওপেকপ্লাসের জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন এমন এক সময়ে উঠেছে, যখন গত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ ব্যারেলে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও ১১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল বেশি।