মধ্যপ্রাচ্যের ভোক্তাদের স্বাদ ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন পণ্য তৈরি করছে খাদ্য ও পানীয় খাতের বহুজাতিক কোম্পানি পেপসিকো। এ লক্ষ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কেন্দ্র চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের ভোক্তাদের জন্য নতুন স্বাদ, রেসিপি ও পণ্যের ধরন নিয়ে কাজ করবেন বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও রাঁধুনিরা।
রিয়াদের নতুন গবেষণা কেন্দ্রটিতে ১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে পেপসিকো। এটি মধ্যপ্রাচ্যে কোম্পানিটির প্রথম আঞ্চলিক গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র। এখান থেকেই সৌদি আরবসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বাজারের কথা মাথায় রেখে নতুন পণ্য তৈরির পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
পেপসিকোর উদ্যোগটির বড় পরিবর্তন হলো পণ্য তৈরির সময় আঞ্চলিক স্বাদকে শুরুতেই বিবেচনায় নেয়া। আগে কোনো পণ্য অন্য দেশে তৈরি করে পরে তা মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে কাটছাঁট বা পরিবর্তন করে বাজারজাত করা হতো। কিন্তু এখন আর সে পুরনো পদ্ধতিতে হাঁটছে না জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। পেপসিকো চায় একদম শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও স্বাদকে মাথায় রেখে নতুন পণ্য পরিকল্পনা ও তৈরি করতে।
পেপসিকোর করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ায়েল ইসমাইল জানান, এতে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত শিখতে ও পণ্যে পরিবর্তন আনতে পারবে। একই সঙ্গে শুরুতেই আঞ্চলিক বাজারকে মাথায় রেখে নতুন পণ্য তৈরি করা সম্ভব হবে।
রিয়াদের গবেষণা কেন্দ্রে পণ্য তৈরির বিভিন্ন ধাপ একই জায়গায় সম্পন্ন করা হবে। একটি ধারণা থেকে শুরু করে রেসিপি তৈরি, নমুনা বা প্রটোটাইপ বানানো, স্বাদ পরীক্ষা এবং ভোক্তার মতামত নেয়াসহ সব কাজ সেখানে করা যাবে।
ওয়ায়েল ইসমাইল বলেন, ‘আগে নতুন কোনো স্বাদ বা পণ্যের ধরন তৈরি ও পরীক্ষা করতে এসব ধাপ বিভিন্ন জায়গায় সম্পন্ন করতে হতো। নতুন কেন্দ্রের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি আরো সমন্বিতভাবে করা সম্ভব হবে।’
রিয়াদে তৈরি হতে যাওয়া পেপসিকোর প্রথম মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক পণ্যের স্বাদ কেমন হবে, তা এখনো জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। তবে কোম্পানির গবেষণা দল স্থানীয় বা ‘হোমগ্রোন’ স্বাদের পণ্যের দিকে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় স্বাদগুলো নতুন পণ্যে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু স্বাদের বিষয়েই গুরুত্ব দিচ্ছে না পেপসিকো। ভোক্তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কম চিনি ও কম সোডিয়ামযুক্ত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। নতুন পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে এ পরিবর্তিত চাহিদাও বিবেচনায় নেয়া হবে। —খবর ও ছবি অ্যারাবিয়ান বিজনেস










