ভারতে চিনির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য (এমএসপি) ২০১৯ সাল থেকে অপরিবর্তিত। এমএসপি বাড়াতে বেশ কয়েকদিন ধরেই দাবি জানাচ্ছে দেশটির চিনি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প। তবে সামনের দিনগুলোয় চিনি শিল্পের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের খাদ্য সচিব সঞ্জীব চোপড়া। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। খবর রয়টার্স।

শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জীব চোপড়া বলেন, ‘‌আগামী মৌসুম শুরুর আগে ইথানল প্রস্তুতে চিনির ব্যবহার নীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া ‌আমরা এমএসপি (সম্ভাব্য) নিয়ে আলোচনা করছি। আগামী দিনগুলোয় এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

ভারতে আগামী মৌসুম শুরু হবে ১ অক্টোবর। চিনি শিল্প সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এমএসপি বাড়ানো হলে আসন্ন মৌসুমে আখচাষীদের সময়মতো অর্থ প্রদান করা সম্ভব হবে।

অভ্যন্তরীণ দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৩-২৪ বিপণন বছরে ইথানল উৎপাদনে চিনির ব্যবহার সীমাবদ্ধ করে দেয় ভারত সরকার। পাশাপাশি দেশটি থেকে চিনি রফতানিও নিষিদ্ধ করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এর আগে এক সূত্র জানিয়েছে, ভারত আগামী বিপণন বর্ষে ১০ লাখ টন চিনি রফতানির আশা করছে। এক্ষেত্রে দেশের চাহিদা ও ইথানল উৎপাদনে প্রয়োজনীয় মজুদের পর অতিরিক্ত চিনি রফতানির অনুমতি দেয়া হবে।

এ বিষয়ে সঞ্জীব চোপড়া বলেন, ‘‌অনুকূল আবহাওয়ায় আখের আবাদ বৃদ্ধির কারণে পরবর্তী মৌসুমে উৎপাদন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উৎপাদন বাড়লে ভারত সরকার আগামী বছরের জন্য এ বিষয়ে নীতি প্রণয়ন করতে পারে।’

সঞ্জীব চোপড়া আরো বলেন, ‘‌বর্তমান চিনির মৌসুম শেষে ভারতে চিনির পর্যাপ্ত মজুদ থাকা উচিত। এতে আমরা আগমী বছর চিনি শিল্প নিয়ে আরো ভালো পরিকল্পনা করতে পারব। ভারত ৮০-৮৫ লাখ টন চিনির সমাপনী মজুদ দিয়ে নতুন বিপণন বছর শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে এর আগের মৌসুমে আখের আবাদযোগ্য অঞ্চল ছিল ৫৭ লাখ হেক্টর (১ কোটি ৪১ লাখ একর)। সম্প্রতি তা বেড়ে ৫৭ লাখ ৭০ হাজার হেক্টরে (১ কোটি ৪৩ লাখ একর) দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ভারত সরকার আখের বাধ্যতামূলক ক্রয়মূল্য বাড়িয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম চিনির ভোক্তা দেশ ভারত। আর উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ব্রাজিলের পরই এ দেশের অবস্থান। ভারত প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ, শ্রীলংকার মতো প্রতিবেশী দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে চিনি রফতানি করে।