চাল রফতানিতে বিশ্বে শীর্ষ দেশ ভারত। সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছর অভ্যন্তরীণ দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল রফতানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ভারত সরকার। চলতি বছরও এসব বিধিনিষেধ চলমান। তবে সম্প্রতি ভারত সরকারের এসব বিধিনিষেধ শিথিলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশটির সরকারি এক সূত্র জানিয়েছেন। দেশটিতে চালের মজুদ রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছানোর পর রফতানি বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে ভারত সরকার। খবর রয়টার্স।
সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বাসমতী চালের ন্যূনতম রফতানি মূল্য (এমইপি) কমাতে পারে ভারত। পাশাপাশি সেদ্ধ চাল রফতানিতে ২০ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট শুল্ক নির্ধারণ করে দেয়া হতে পারে।
সূত্র আরো জানায়, এর আগে দেশটিতে বাসমতী চালের এমইপি ছিল টনপ্রতি ৯৫০ ডলার। বর্তমানে তা কমিয়ে ৮০০-৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়া হতে পারে।
এমইপি কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে পাকিস্তানের বিপরীতে বৈশ্বিক চালের বাজারে হিস্যা বাড়বে ভারতের। নয়াদিল্লির বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে চলতি বছর রেকর্ড চাল রফতানি করে পাকিস্তান।
এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি এল নিনোর প্রভাবে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ভারত নন-বাসমতী সাদা চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সূত্র জানায়, এ ধরনের চাল রফতানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কথাও এবার বিবেচনা করতে পারে সরকার।
বাসমতী চাল রফতানিতে বিশ্বে শীর্ষ দেশ ভারত ও পাকিস্তান। এর মধ্যে ভারত প্রতি বছর ৪০ লাখ টনের মতো বাসমতী চাল ইরাক, ইরান, ইয়েমেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করে।
ভারতের ফুড করপোরেশনের দেয়া তথ্যমতে, দেশটিতে ১ জুলাই চালের রাষ্ট্রীয় মজুদ পৌঁছায় ৪ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার টনে। ভারতে চালের এমন মজুদ চলতি মাসে সর্বোচ্চ ও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া চলতি শস্য উৎপাদন মৌসুমে ভারতে মোট ১ কোটি ১৬ লাখ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, ভারত থেকে মোট রফতানি হওয়া চালের প্রায় ২৫ শতাংশ নন-বাসমতী সাদা চাল। আর দেশটি থেকে সেদ্ধ চাল বেশির ভাগই পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয় রফতানি করা হয়। আর ভারতীয় বাসমতী চাল প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। বিশ্বের প্রায় ৪২টি দেশ মোট চাল আমদানির ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারত থেকে আমদানি করে।
এর আগে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস বাজারসংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, সেদ্ধ চালের ওপর রফতানি শুল্ক নীতির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়াতে পারে ভারত সরকার। পাশাপাশি সরকার সেদ্ধ চালের জন্য শতাংশভিত্তিক শুল্কের পরিবর্তে ফ্রি অন বোর্ডে (এফওবি) টনপ্রতি ৯০ ডলারের মতো একটি নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা যায় কিনা সে বিষয়েও চিন্তা করছে। শিপিং টার্মস অনুযায়ী, এফওবি মানে পণ্য সরবরাহে বিক্রেতার পরিবর্তে ক্রেতা নিজ দায়িত্বে খরচ ও পণ্য পরিবহনের সময়কালীন ঝুঁকি গ্রহণ করে।










