এইচএসবিসি বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) যৌথ উদ্যোগে হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোড শো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে। হংকংয়ে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের সহযোগিতায় এ রোড শোয় ১৩০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা, সোর্সিং পেশাজীবী, পোশাক প্রস্তুতকারক ও খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এইচএসবিসি বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।

এইচএসবিসির হেড অব গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিং অলিভার টি জোনসের স্বাগত বক্তব্যে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এ সময় আরো বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. রুবানা হক। ‘হোয়াই বাংলাদেশ: লেগ্যাসি অ্যান্ড দ্য ফিউচার’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি দেশের পোশাক শিল্পের রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ‘কেন বাংলাদেশ থেকে পণ্য সোর্সিং করব’ এবং ‘ক্রেতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে’ শীর্ষক দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উৎপাদন সক্ষমতা, ক্রেতাদের প্রত্যাশা, পরিবেশগত মান, সোর্সিংয়ের নতুন ধারা এবং স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেন এইচএসবিসি, বিজিএমইএ ও আন্তর্জাতিক সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ‘দ্য বাংলাদেশ কালেক্টিভ’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে দেশের পোশাক শিল্পের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।

হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর বলেন, ‘উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, টেকসই উৎপাদনে নেতৃত্ব ও কৌশলগত বাণিজ্য সুবিধার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয়।’ প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের পোশাক শিল্প উদ্ভাবন ও অভিযোজনের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন আর শুধু বিপুল উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়। উচ্চমূল্যের উদ্ভাবন, টেকসই ব্যবস্থা, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও দক্ষতার মাধ্যমে বৈশ্বিক পোশাক শিল্পের পরবর্তী পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।’

অনুষ্ঠানে বিশ্বমানের ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সরাসরি যাচাই করতে পারছেন। মূল্য সংযোজন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদনে এগিয়ে চলা এ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব প্রয়োজন।’

এইচএসবিসি জানিয়েছে, বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অভিজ্ঞতা ও পোশাক খাতের গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করছে ব্যাংকটি। এ রোড শোর মাধ্যমে পোশাক খাতে আন্তর্জাতিক সংযোগ, সোর্সিংয়ের বহুমুখীকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ বাড়ানোই দুই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।