মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে অস্ট্রেলিয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ)। মঙ্গলবার ব্যাংকটি সুদহার দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় সুদহার গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর এফটি।
এটি চলতি বছরে চতুর্থবারের মতো সুদহার বাড়ার ঘটনা। ২০১১ সালের অক্টোবরে ইউরোপীয় ব্যাংকিং সংকটের সময় দেশটির সুদহার এ পর্যায়ে উঠেছিল। তবে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে না এলে ভবিষ্যতে সুদহার আরো বাড়ানো হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ব্যাংকটি।
করোনা মহামারীর পর ২০২২ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া সুদহার বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকটি পুনরায় নতুন করে সুদহার বাড়ানো শুরু করে।
অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, সুদহার বাড়ার এ ধারা আগামী বছর পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। আরবিএ গর্ভনর মিশেল বুলক জানান, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বাড়ানোর ঘোষণার পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলীয় ডলারের মান দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ অপরিবর্তিত ছিল।
আরবিএ গভর্নর মিশেল বুলক জানান, অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, সার ও পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। গভর্নর আফসোস করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সাধারণ মানুষকে আরো দরিদ্র করে তুলেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টে দেশটির মূল্যস্ফীতি ব্যাংকের নির্ধারিত ২-৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করছে। জুলাইয়ে সার্বিক ভোক্তা মূল্যসূচক ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এরই মধ্যে দেশটির আবাসন খরচ ৫ শতাংশ এবং খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব মজুরি না বাড়ায় ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সুদহার টানা বৃদ্ধি পাওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাতে।
সম্পত্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোটালিটি জানায়, বন্ধকি ঋণের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় মানুষের বাড়ি কেনার সক্ষমতা কমেছে। পাশাপাশি আবাসন খাতে কর সুবিধা কমিয়ে দেয়ায় বিনিয়োগকারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশটিতে ঘরবাড়ির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশ কমে যাচ্ছে।










