থাইল্যান্ডে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ব্যবহার বাড়ছে। আগস্টে ব্যাটারিচালিত ইভি বা বিইভি সরবরাহ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডে যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রির ৮০ শতাংশ ছিল ইভি। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী জ্বালানি বা তেলের গাড়ির চাহিদা দিন দিন কমে আসছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

ফেডারেশন অব থাই ইন্ডাস্ট্রিজের (এফটিআই) তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটিতে মোট গাড়ির বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে। টানা ছয় মাসের মতো প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে বাজারটি। মূলত যাত্রীবাহী গাড়ির চাহিদা বাড়ার কারণেই বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে বিইভি বিক্রি ১১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে। হাইব্রিড ইলেকট্রিক গাড়ি (এইচইভি) বিক্রি ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৮০৭ ইউনিটে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির (পিএইচইভি) বিক্রি ১২৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৩ ইউনিটে। কিন্তু এর বিপরীতে প্রথাগত তেলচালিত গাড়ির বিক্রি ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ইউনিটের কাছাকাছি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টে বিক্রি হওয়া মোট যাত্রীবাহী গাড়ির ৮০ শতাংশের বেশি ছিল পরিবেশবান্ধব ইভি ও হাইব্রিড গাড়ি।

এফটিআইয়ের অটোমোবাইল বিভাগের মুখপাত্র সুরাপং পাইসিটপত্তনাপং জানান, গাড়ি বিক্রি ও উৎপাদন বাড়লেও প্রবৃদ্ধি এখনো মহামারী-পূর্ব অবস্থায় পৌঁছেনি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে চলেছে। এটি সাধারণ মানুষকে তেলের বিকল্প হিসেবে ইভি কিনতে উদ্বুদ্ধ করছে। পাশাপাশি বিশেষ করে চীনা প্রস্তুতকারকদের প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের ইভি বাজারে আসায় ক্রেতাদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে।

ইভির চাহিদা দ্রুত বাড়লেও এতে বিদেশী গাড়ির ওপর থাইল্যান্ডের নির্ভরতা ফুটে উঠেছে। আগস্টে স্থানীয়ভাবে ১৩ হাজার ১২৬টি বিইভি তৈরি হয়েছে। এছাড়া বছরের প্রথম আট মাসে দেশটিতে ৬০ হাজার ৫৭৮টি বিইভি তৈরি হলেও বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি। অর্থাৎ বিক্রি হওয়া বিইভির প্রায় ৫৮ শতাংশই আমদানি করা।