চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা ৬ শতাংশ কমেছে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭ দশমিক ৫ টনে। বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির বার ও স্বর্ণমুদ্রার নিম্নমুখী চাহিদা মোট বৈশ্বিক চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ধাতুটির ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা চাহিদা কমার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো মূল্যসংবেদনশীল কিছু বাজারে এমন পরিস্থিতির প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।
স্বর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশ চীন। তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে মূল্যবান এ ধাতুর চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশটিতে চাহিদা ছিল ২৪২ দশমিক ৭ টনের। চলতি বছরের একই সময় তা বেড়ে ২৪৭ টনে দাঁড়িয়েছে।
ডব্লিউজিসি জানায়, চীনের স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের তুলনামূলক দাম (প্রাইস প্রিমিয়াম) অনেক বেশি হওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ধাতুটি কেনার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখা দেয়। দাম কমে আসার প্রত্যাশায় তারা ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেন।
অন্যদিকে, বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ ভারতে চাহিদা বেড়েছে ১০ শতাংশ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১০ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময় ছিল ১৯১ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে চাহিদা ১১ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। শ্রীলংকায় চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪ টনে।
ডব্লিউজিসির তথ্যানুযায়ী, সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকে জুয়েলারি বা স্বর্ণালংকারের বৈশ্বিক ব্যবহার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমেছে। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১৬ টনে। জুয়েলারি ফ্যাব্রিকেশন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কমে ৫৭৮ টনে নেমেছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের বার ও মুদ্রার চাহিদা ১৪ শতাংশ কমেছে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এ খাতে চাহিদা ছিল ৩৪৪ দশমিক ২ টন। চলতি বছরের একই সময় তা ২৯৬ দশমিক ২ টনে নেমেছে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ইরানসহ বিভিন্ন দেশে এ খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রযুক্তি খাতে ধাতুটির চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৩ টনে। এ সময় ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিতে চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল ছিল। যদিও কিছু খাতে চাহিদা পুনরুদ্ধারের আভাস ছিল।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সব মিলিয়ে ৩৩৭ দশমিক ১ টন স্বর্ণ কিনেছে, গত বছরের একই সময় যা ছিল ৪৫৮ দশমিক ৮ টন। সে হিসাবে ক্রয়ের পরিমাণ কমেছে ২৭ শতাংশ।
তৃতীয় প্রান্তিকে কমলেও বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে। বছরের শেষ নাগাদ ব্যাংকগুলোয় ধাতুটির বলিষ্ঠ চাহিদা থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৭ দশমিক ১ টনে, গত বছরের একই সময় যা ছিল ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৬ টন। সে হিসাবে সরবরাহ ৬ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক স্বর্ণ উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭১ টনে।










