ছয় মাসের মধ্যে এসব পাটকল চালু হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রফতানি আয় বাড়াতে সরকার পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’ গতকাল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বন্ধ মিল ইজারাসংক্রান্ত স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এক জরুরি সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বন্ধ থাকা পাটকলগুলোর অবস্থা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং অবশিষ্ট মিলগুলোতে কীভাবে দ্রুত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়—এসব বিষয় পর্যালোচনার জন্যই এ সভার আয়োজন করা হয়। এরই মধ্যে কিছু পাটকল বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেগুলোতে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, যা বেশ ইতিবাচক।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আরো ছয়টি পাটকল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি মিলেই এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি। এছাড়া মিলভেদে প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ আসবে বলে প্রাথমিক প্রক্ষেপণ আছে।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অদূরভবিষ্যতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন সব মিলই পুনরায় উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে ফিরবে—কিছু পাট খাতে, আবার কিছু ভিন্ন শিল্প খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে চালু হবে। ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে উঠবে।’

ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ‘টেক্সটাইল ও পাটকলগুলো পরিদর্শন করছি ও সার্বিক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকে দ্রুত কাজ করছি। সরকার বন্ধ পাটকলগুলোকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে।’

সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিজেএমসি অধীনে থাকা ২৫টি পাটকলের কার্যক্রম ২০২০ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে ২০টি মিল লিজ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ১৪টি মিল লিজ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে নয়টি উৎপাদনমুখী হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের।