বিশ্বব্যাপী পণ্যসামগ্রীর দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে নিম্নমুখী হচ্ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, ধাতু, শস্যসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রীর দাম। খবর আরব নিউজ রয়টার্স।

বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম মানদণ্ড অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম গত সপ্তাহে প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যের পাশাপাশি শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে চাহিদা কমে যাওয়ায় পণ্যটির দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় বিশ্ব সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দামে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি।

এ বিষয়ে পিভিএম বিশ্লেষক তামাস ভার্গ বলেন, ‘‌মধ্যপ্রচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলন সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে তেমন প্রভাব ফেলেনি।’

পণ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজির প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেন, ‘‌অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এরই মধ্যে অনেক কমেছে। তবে এ বাজারে বর্তমানে প্রভাব ফেলছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।’

এদিকে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে তামার দাম গত চার মাসে সর্বনিম্নে নেমেছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা কমে যাওয়ায় ধাতুটির দাম নিম্নমুখী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, চীনে দীর্ঘদিন ধরেই আবাসন খাতে মন্দা পরিস্থিতি চলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছুদিন আগেই সাশ্রয়ী মূল্যে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশটি। তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে প্রধান ভোক্তা দেশে সম্প্রতি অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহারিক ধাতুর দাম কমছে। যদিও জুলাইয়ে চীনের পরিষেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

স্যাকসো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেছেন, ‘‌গত মাসজুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ছিল নিম্নমুখী। এতে বোঝা যায় স্টক মার্কেটের সাম্প্রতিক পতন এরই মধ্যে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে।’

বিশ্ববাজারে বেশির ভাগ কৃষিপণ্যের দামও কমছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দাম কমে ২০২০ সালের পর প্রায় সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে। এরই মধ্যে পণ্যটির দাম ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ভুট্টা ১ দশমিক ৫ শতাংশ, সয়াবিন ১ শতাংশ ও চিনির দাম কমে প্রায় দুই বছরের সর্বনিম্নে নেমে গেছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে ইউরোপীয় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কার্বনের মূল্যও কমতির দিকে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান ম্যারেক্সের গাই উলফ বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্য খারাপ পরিস্থিতিতে পড়লে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কমে যেতে পারে। চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দাম নিম্নমুখী।’