দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর ফের দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে শুকনো মরিচ (কারেন্ট ঝাল) আমদানি শুরু হয়েছে। দেশের বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় পণ্যটি আমদানি করা হচ্ছে। এটির সরবরাহ বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে শুকনো মরিচ আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয়ও বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে শুকনো মরিচ আমদানি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আমদানি বন্ধ ছিল। তবে ১৬ মার্চ আবারো আমদানি শুরু হয়। গত ২১, ২৭ ও ২৮ মার্চ বন্দর দিয়ে মোট আটটি ট্রাকে ১৬৪ টন শুকনো মরিচ আমদানি হয়েছে, যা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা।
হিলি বাজারের শুকনা মরিচ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, হিলিতে এক মাস ধরে শুকনো মরিচের দাম স্থিতিশীল। দেশীয় শুকনো মরিচ প্রতি কেজি ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভারত থেকে যে মরিচ আমদানি হচ্ছে, সেটির দাম একটু বেশি। বর্তমানে আমদানীকৃত শুকনো মরিচ কেজিপ্রতি ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের সিআ্য্যন্ডএফ এজেন্ট নূর-এ আলম সিদ্দিক বলেন, দেশের বাজারে ভালো চাহিদা ও দাম থাকায় রুবেল এন্টারপ্রাইজ নামের বগুড়ার এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে শুকনো মরিচ আমদানি করছে। এক বছর আগেও এ বন্দর দিয়ে একই প্রতিষ্ঠান শুকনো মরিচ আমদানি করেছিল। মাঝে পড়তা না থাকায় আমদানি বন্ধ ছিল।
তবে আসন্ন রমজানকে ঘিরে দেশের বাজারে শুকনো মরিচের চাহিদা থাকায় আবারো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হয়েছে।
ভারতের অন্ধ প্রদেশ থেকে প্রতি টন শুকনো মরিচ ২ হাজার ২০০ ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে, যা একই মূল্যে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষ শুল্কায়ন করছে। ফলে প্রতি কেজিতে সরকারি শুল্ক বাবদ পরিশোধ করতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ২৯ টাকা।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক। ভারত থেকে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি নতুন করে শুকনো মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয়ও বেড়েছে।










