সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে আমদানি কমলেও সাতক্ষীরার মসলা বাজারে জিরার দাম কমেছে। এক সপ্তাহের ব‌্যবধানে কেজিতে দাম কমেছে ৭০-৮০ টাকা।

ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখার তথ্যানুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হয়েছে ১৮৫ টন, যার মূল‌্য ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময় ২৭২ টন জিরা আমদানি হয়, যার মূল‌্য ছিল ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মসলাপণ্যটির আমদানি কমেছে ৮৭ টন।

আমদানি কমার কারণ হিসেবে ভোমরা স্থলবন্দরের রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান বলেন, ‘‌যেকোনো পণ্য মূলত চাহিদার ওপর নির্ভর করে আমদানি কম বা বেশি হয়। সম্প্রতি দেশের বাজারে চাহিদা কমায় ভারতীয় জিরা আমদানি কিছুটা কমে গেছে। তাছাড়া ভারতের বাজারে জিরার দামও তুলনামূলক কম। তাই দেশের বাজারেও পণ্যটির দাম কম।’

অন‌্যদিকে বন্দরে আমদানি কমার পাশাপাশি এক সপ্তাহের ব‌্যবধানে সাতক্ষীরার বাজারেও জিরার দাম কমে গেছে। খুচরা ও পাইকারিতে এখন কেজিতে ৭০-৮০ টাকা কমে পণ্যটি লেনদেন হচ্ছে।

সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারের খুচরা মসলাপণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফতেমা স্টোরে গতকাল আমদানি করা ভারতীয় জিরা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৪৮০-৫০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৭০-৫৮০ টাকা। হঠাৎ দাম কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, পাইকারিতে দাম কমার পাশাপাশি ভারতীয় জিরার চাহিদা কমে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা কমে এসেছে। তবে এ সময় তুরস্ক ও আফগানিস্তানের জিরা প্রতি কেজি ৬৮০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বণিক বার্তাকে জানান, আমদানি খরচ কমে গেলে যেকোনো পণ্যের দাম কমে যায়। বর্তমানে ভারতের বাজারে জিরার দাম কমে গেছে। এতে ব‌্যবসায়ীদের আমদানি খরচও কমে গেছে। তাই বাজারে জিরার দামও কমে গেছে।