২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের পর্যাপ্ত বৈশ্বিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও সংকট এড়াতে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনমিকস জাপানের (আইইইজে) এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর অয়েলপ্রাইসডটকম।

আইইইজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে উন্নত বিশ্ব। জিরো কার্বন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেক দেশ অপরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে খ্যাত কয়লার বদলে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবছে। এমন বাস্তবতায় নতুন গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়ন, নতুন এলএনজি রফতানি অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যমান প্লান্টগুলোর সম্প্রসারণে এ বিনিয়োগ প্রয়োজন।

তবে ২০২৫ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণের মাত্রা যদি বর্তমান পর্যায়ে থাকে, তাহলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ সংকট এড়াতে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন জাপানিভিত্তিক একই থিংক ট্যাংক। 

চলতি মাসের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানায়, আগামী বছরগুলোয় বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে পড়তে পারে। ২০২২-২৬ সালের মধ্যে চাহিদা প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ১ দশমিক ৬ শতাংশে, ২০১৭-২১ সাল পর্যন্ত যা ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। 

সংস্থাটির বিশ্লেষণ বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা দেয়। ইউরোপ বিশ্বের অন্যতম গ্যাস ব্যবহারকারী অঞ্চল। যুদ্ধের আগে রাশিয়া থেকেই অঞ্চলটিতে গ্যাসের সিংহভাগ সরবরাহ আসত। কিন্তু ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় গত বছর রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপ। চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ থেকে বিকল্প জ্বালানি আমদানির দিকে ঝোঁকে অঞ্চলটি। গ্যাসের বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়ার পেছনে এ বিষয় বড় ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া ওই সময় গ্যাসের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিও এর পেছনে অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

জ্বালানি জায়ান্ট শেভরনের এক নির্বাহী বলেন, ‘‌স্পট মার্কেটে এলএনজির বৈশ্বিক দাম ২০২৫ সাল পর্যন্ত অস্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি ইউরোপে চলতি বছর শীতের তীব্রতা কম থাকলেও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ না কাটলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশ গ্যাস সরবরাহ নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।’

আইইএর এনার্জি মার্কেটস অ্যান্ড সিকিউরিটিজের পরিচালক কেইসুক সাডামোরি বলেন, ‘‌চাহিদায় ধীর প্রবৃদ্ধি ও বাজারে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার কারণে নতুন করে আরো তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক বাজার। ফলে চলতি দশকের শেষ দিকে গ্যাসের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। 

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক গ্যাস ইউনিয়ন (আইজিইউ) জানায়, আগামী বছরগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদায় ধীর প্রবৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেক অপারেটর নতুন করে বিনিয়োগে ভয় পাচ্ছেন। 

ইতালিয়ান গ্যাস গ্রিড অপারেটর স্ন্যাম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেইস্ট্যাড এনার্জির সহায়তায় গ্লোবাল গ্যাস রিপোর্ট ২০২৩ প্রস্তুত করে আন্তর্জাতিক গ্যাস ইউনিয়ন। এতে বলা হয়, চাহিদা নিয়ে নজিরবিহীন অনিশ্চয়তা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসে (আরএনজি) অপ্রতুল বিনিয়োগ জ্বালানি স্থানান্তরকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।