বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ছে। স্থাপন করা হচ্ছে প্রচুর ডাটা সেন্টার। এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতু তামার চাহিদা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। ফলে চলতি দশকের শেষ নাগাদ ধাতব পণ্যটির সরবরাহ সংকট তৈরিরও আশঙ্কা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কমোডিটি বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগিউরা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স। 

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, জ্বালানি রূপান্তরের অংশ হিসেবে আগামী বছরগুলোয় বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা চলছে। এর ফলে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে তামার ব্যবহার আরো বাড়তে পারে। 

সম্প্রতি লুসানে অনুষ্ঠিত ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের গ্লোবাল কমোডিটিজ সামিটে ট্রাফিগিউরার প্রধান অর্থনীতিবিদ সাদ রহিম বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইন্ডাস্ট্রি ও ডাটা সেন্টার স্থাপনে তামার চাহিদায় হঠাৎ করে উল্লম্ফন দেখা গেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০-৫০ লাখ টন ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত আরো ১০ লাখ টন ঘাটতি হতে পারে, যা বর্তমান পূর্বাভাসে অন্তর্ভুক্তই হয়নি।’ তবে ২০৩০ সাল নাগাদ তামার বৈশ্বিক চাহিদা ঠিক কতটা হতে পারে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি সাদ রহিম। 

গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত রয়টার্সের জরিপের ফলাফল অনুসারে, চলতি বছর বৈশ্বিক তামার চাহিদা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টন হতে পারে। অন্যদিকে তামার বৈশ্বিক ঘাটতি ছিল ৩৫ হাজার টন, যা ২০২৫ সাল নাগাদ এক লাখ টনে পৌঁছতে পারে। 

চীন বিশ্বের বৃহত্তম তামা উৎপাদক ও ব্যবহারকারী। জ্বালানি রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো ধাতব পণ্যের বাজারও দখল রেখেছে দেশটি। চীনের এ আধিপত্য কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে চাওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য যথেষ্ট দুশ্চিন্তার কারণ। 

ইউরোপিয়ান ব্যাংক অব রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিটা জ্যাভরকিকের আশঙ্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতব পণ্যগুলোর একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন। অন্যদিকে এর সামান্য হিস্যার ওপরই দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বী পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’