চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক ও রফতানিকারক। চলতি বছর দেশটিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ইস্পাত উৎপাদন হচ্ছে। ধাতুটি উৎপাদনে প্রধান উপকরণ হিসেবে বাড়ছে আকরিক লোহার ব্যবহার ও চাহিদাও। ফলে চলতি বছর এটির স্থানীয় মজুদ কমে সাত বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এ পরিস্থিতিতে দেশটি চাহিদা মেটাতে আগের বছরগুলোর তুলনায় আকরিক লোহা আমদানি লক্ষণীয়ভাবে বাড়াবে বলেও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

চীনের আটজন বিশ্লেষকের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির বন্দরগুলোয় চলতি বছরের শেষ নাগাদ আকরিক লোহার মজুদ ২০১৬ সালের পর সর্বনিম্নে নামতে পারে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১২ কোটি টনে। এতে ধাতুটির দাম বাড়বে। অন্যদিকে, আমদানি তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে চীন বেশকিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে দেশটিতে দ্রুত বাড়ছে অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্পোৎপাদন। এসব খাতের কার্যক্রম গতিশীল হওয়ার অর্থই হচ্ছে ইস্পাতের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা, যা পূরণে প্রয়োজন আকরিক লোহার বাড়তি সরবরাহ। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার অনুপাতে চীনে আকরিক লোহা উত্তোলন ও সরবরাহ কম।

চীন সরকার গত দুই বছর ইস্পাত উৎপাদন কমানোর নীতি অনুসরণ করে আসছিল। কার্বন নিঃসরণ কমার পাশাপাশি এ খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যেই এ নীতি গ্রহণ করেছিল দেশটি। তবে চলতি বছর এ নীতি থেকে সরে আসে চীন, যা আকরিক লোহার চাহিদায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মাইস্টিল জানায়, চলতি বছরের জুন-আগস্টের মধ্যে চীনে গলিত লোহা উৎপাদন হয়েছে দৈনিক গড়ে ২৪ লাখ ৪০ হাজার টন করে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।

পুনর্ব্যবহারযোগ্য লোহা ও ইস্পাতকে স্ক্র্যাপ বলা হয়। ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেসে এসব স্ক্র্যাপ গলিয়ে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করা হয়। এতে কার্বনের মাত্রা যেমন কম থাকে, তেমনি ব্যয়ও সাশ্রয় হয়। কিন্তু চীনে প্রপার্টি মার্কেটে বিপর্যয়ের কারণে স্ক্র্যাপ উৎপাদন কমেছে। ফলে ইস্পাত কারখানাগুলো বিকল্প হিসেবে ব্লাস্ট ফার্নেসে আকরিক লোহা থেকে গলিত ইস্পাত উৎপাদন করছে, যা থেকে পরে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি শেষ নাগাদ আকরিক লোহার মূল্য দাঁড়াতে পারে টনপ্রতি ১০৫-১১৫ ডলারে, যা আগের পূর্বাভাসে ছিল ৯০-১০০ ডলার। অর্থাৎ মজুদ কমার আশঙ্কা দাম লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।