প্রায় ২ হাজার ৭০০ বছরের পুরনো এক মিসরীয় নারীর মমি জাদুঘরের প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মমিটি ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল। খবর বিবিসি।
মমিটির নাম আসরু। প্রাচীন মিসরের এ নারীর মমি ১৮২৫ সালে প্রথমবার জনসাধারণের সামনে প্রদর্শন করা হয়। তখন তার কাঠের কফিন থেকে মমি বের করে লিনেন কাপড়ের স্তরগুলো খুলে ফেলা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দর্শনার্থীরা তার মমিটি দেখে আসছে। সম্প্রতি ম্যানচেস্টার মিউজিয়াম আসরুর মমিকে প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে সংরক্ষণাগারে রেখেছে।
জাদুঘরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি মৃত ব্যক্তির ইচ্ছার বিষয়ে আমাদের ধারণা ও গবেষণার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আসরুর সময়ের অভিজাত মিসরীয়রা আশা করতেন, মৃত্যুর পর তাদের মমি কফিনের ভেতরই আবৃত থাকবে। জীবিত মানুষের চোখের সামনে মরদেহ প্রদর্শিত হবে—এমনটা তাদের প্রত্যাশা ছিল না।
আসরুর মমি এতদিন ম্যানচেস্টার মিউজিয়ামের ‘ইজিপ্ট অ্যান্ড সুদান গ্যালারি’তে প্রদর্শিত হচ্ছিল। চলতি মাসের শুরুতে সেটিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে তার কাঠের কফিন এখনো প্রদর্শনীতে রয়েছে।
মিউজিয়ামগুলো পুরনো নিদর্শন প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শনার্থী আকর্ষণ করে। তাই মমিটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে ফেলায় তা দর্শনার্থী অভিজ্ঞতা ও মিউজিয়ামের প্রদর্শনী ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
আসরুর মমি ও কফিন আধুনিক মিসরের লুক্সর এলাকা থেকে খনন করে বের করা হয়। প্রাচীন থিবস নগরীর অবস্থান ছিল এ এলাকায়। পরে উনিশ শতকের শুরুর দিকে মমি ও কফিনের মালিকানা যায় ম্যানচেস্টারের ব্যবসায়ী উইলিয়াম ও রবার্ট গারনেটের কাছে।
১৮২৫ সালে তারা আসরুর দেহ ম্যানচেস্টার ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটিকে দান করেন। এরপর প্রায় দুই শতাব্দী ধরে তা জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়।
আসরুর মমি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক দিক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত জাদুঘরটি নিজেদের সংগ্রহ জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার বদলে সংরক্ষণাগারে রাখলে করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয় না।
যুক্তরাজ্যের করদাতাদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ট্যাক্সপেয়ার্স অ্যালায়েন্সের প্রচারণা পরিচালক উইলিয়াম ইয়ারউড জানান, মানবদেহের অবশেষের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। তবে ‘অন্তর্ভুক্তির’ কথা বলে ইতিহাসকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে সরিয়ে রাখা ভিন্ন বিষয়। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত জাদুঘরগুলোর উচিত তাদের সংগ্রহ দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা।
কোনো গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নিলে এর সংরক্ষণ ব্যয় চলমান থাকে, কিন্তু সেটি থেকে দর্শনার্থী আকর্ষণ বা প্রদর্শনীকেন্দ্রিক আয় কমে যেতে পারে।










