বিশ্বের বড় কিছু অর্থনীতিতে এরই মধ্যে নিম্ন জন্মহার গুরুত্বপূর্ণ চালক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিতে পারে, যা ২৫ বছরের মধ্যে অঞ্চলভিত্তিক নতুন জনবিন্যাসে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে সাম্প্রতিক এ গবেষণায় উঠে এসেছে। খবর সিএনবিসি।
গবেষণাপত্রটি প্রকাশ হয়েছে দ্য ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে। সেখানে বলা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ দেশে নারী প্রতি শিশুর সংখ্যা ২ দশমিক ১-এর নিচে নেমে যেতে পারে। প্রাথমিক অনুমান অনুসারে, ওই সময় ৪৯টি দেশ বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও এশিয়ার নিম্ন আয়ের অঞ্চলে বেশির ভাগ শিশুর জন্ম হবে।
গবেষকরা বলছেন, সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা ও জীবিত শিশুর জন্মহার বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার বৃদ্ধির ধারা পরিবর্তনে প্রভাব ফেলবে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, অভিবাসন ও বৈশ্বিক সহায়তা নেটওয়ার্কগুলো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
২১০০ সালের মধ্যে মাত্র ছয়টি দেশে জনসংখ্যা প্রতিস্থাপন হতে পারে। এগুলো হলো আফ্রিকার শাদ, নাইজার ও টোঙ্গা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ সামোয়া ও টোঙ্গা এবং মধ্য এশিয়ার তাজিকিস্তান।
গবেষকরা বলেছেন, জনসংখ্যার অঞ্চলগত এ পরিবর্তনের ওপর গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব থাকবে। বিশেষ করে উন্নত অর্থনীতিতে সংকুচিত কর্মশক্তির জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও আর্থিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে। এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কিছুটা সহায়তা দিতে পারে।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ও ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের পরিচালক ড. ক্রিস্টোফার মারে বলেন, ‘কর্মী কমার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির মোট আকার হ্রাস পাবে। অভিবাসন নীতি শিথিল না করলে দেশগুলো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কর্মশক্তি কমে যাওয়ায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রভাবকে হ্রাস করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস। কিন্তু আবাসনের মতো কিছু খাত কর্মীর অনুপস্থিতিতে ভীষণভাবে প্রভাবিত হবে।’
১৯৫০-২০২১ সালের বিশ্বব্যাপী মোট ফার্টিলিটির হার (টিএফআর) বা একজন নারীর বিপরীতে জন্ম নেয়া শিশুর গড় সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি নেমে এসেছে। অর্থাৎ, ৪ দশমিক ৮৪ থেকে ২ দশমিক ২৩-এ নেমে এসেছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এ সময়ে অনেক দেশ আগের চেয়ে সম্পদশালী হয়েছে ও নারীরা কম সন্তান নিয়েছেন। এ প্রবণতার পেছনে সামাজিক পরিবর্তনও রয়েছে। যেমন কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও চীনের এক সন্তান নীতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হয়, ২০৫০-২১০০ সালের মধ্যে মোট বৈশ্বিক ফার্টিলিটির হার ১ দশমিক ৮৩ থেকে ১ দশমিক ৫৯-এ নেমে যাবে। যদিও দম্পতি প্রতি সন্তান প্রতিস্থানের হার ২ দশমিক ১ তখনো প্রযোজ্য থাকবে।
বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটি। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ ৯৭০ কোটি ও ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪০ কোটিতে পৌঁছে যাবে।
ল্যানসেটের গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে অনেক উন্নত অর্থনীতিতে জন্মহার প্রতিস্থাপন হারের চেয়ে কম। চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝিতে প্রধান অর্থনীতি চীন ও ভারত এ ধারায় অন্তর্ভুক্ত হবে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার বিশ্বব্যাপী সর্বনিম্ন, মাত্র দশমিক ৮২।










