বিশ্ববাজারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিকেলের উদ্বৃত্ত লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। সরবরাহের তুলনায় ব্যবহার কমে যাওয়ায় উদ্বৃত্তের আকার বড় হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল নিকেল স্টাডি গ্রুপ (আইএনএসজি) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে উদ্বৃত্তের পরিমাণ লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়ে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭০০ টনে উন্নীত হয়েছে, গত বছরের একই সময় যা ছিল ৪৬ হাজার ৭০০ টন। তবে গত আগস্টে উদ্বৃত্তের পরিমাণ কমে ১৬ হাজার ২০০ টনে নেমেছে, গত বছরের একই সময় যা ছিল ২৪ হাজার ৪০০ টন। জুলাইয়ের তুলনায়ও উদ্বৃত্ত কমেছে। ওই মাসে উদ্বৃত্ত ছিল ২৫ হাজার ৭০০ টনের।
স্টেইনলেস ইস্পাত উৎপাদনের প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় নিকেল। বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান সংকটের কারণে স্টেইনলেস ইস্পাত উৎপাদন কমায় নিকেলের ব্যবহারও কমতির দিকে। কিন্তু ধাতুটির সরবরাহ সে তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ায় ধাতুটির উত্তোলন বাড়ার হার চোখে পড়ার মতো। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে নিকেল সরবরাহে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটির অবদান ৭০ শতাংশে উন্নীত হবে। এছাড়া চীনও এক্ষেত্রে বড় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে। এদিকে সরবরাহের তুলনায় ব্যবহারের পরিমাণ কমতে থাকায় ধাতুটির দাম অব্যাহত কমছে।
আইএনএসজি জানায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিশ্বজুড়ে খনি থেকে নিকেল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩০০ টনে। গত বছরের একই সময় যা ছিল ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ টন। আগস্টে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬০০ টন নিকেল উত্তোলন করা হয়েছে। গত বছরের একই সময় উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯১ হাজার ৭০০ টন।
লিসবনভিত্তিক গ্রুপটি জানায়, চলতি বছর নিকেলের বৈশ্বিক চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩২ লাখ টনে। আগামী বছর তা বেড়ে ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টনে উন্নীত হবে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি উৎপাদনে ধাতুটির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং স্টেইনলেস ইস্পাত খাতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ৩৪ লাখ ২০ হাজার টন নিকেল উত্তোলন হতে পারে বলে মনে করছে আইএনএসজি। আগামী বছর তা বেড়ে ৩৭ লাখ ১০ হাজার টনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত ইন্দোনেশিয়ায় নিকেল পিগ আয়রনের ধারাবাহিক উৎপাদন বৃদ্ধি এক্ষেত্রে রসদ জোগাবে।










