অপরিশোধিত লোহার (পিগ আয়রন) বৈশ্বিক উৎপাদন চলতি বছরের জুনে আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১১ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টনে নেমে গেছে। একই সঙ্গে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় উৎপাদন কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ওয়ার্ল্ডস্টিলের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর জিএমকে সেন্টার। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে ‘ব্লাস্ট ফার্নেস’ পদ্ধতিতে বৈশ্বিক অপরিশোধিত লোহা উৎপাদন আগের মাস এবং আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ‘ডিরেক্ট রিডাকশন’ পদ্ধতিতে বৈশ্বিক অপরিশোধিত লোহা উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমে ১ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার টনে পৌঁছেছে। তবে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ পদ্ধতিতে উৎপাদন ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। 

২০২৩ সালের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক অপরিশোধিত লোহার উৎপাদন ছিল ৭০ কোটি ৪০ লাখ ১০ হাজার টন। এ সময় ব্লাস্ট ফার্নেস পদ্ধতিতে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬৪ কোটি ২৪ লাখ এবং ডিরেক্ট রিডাকশন পদ্ধতিতে ৬ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার টন। 

এদিকে উৎপাদন কমলেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে অপরিশোধিত লোহা উৎপাদনে চীন শীর্ষে ছিল। দেশটির উৎপাদনের পরিমাণ ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এ সময় দেশটির উৎপাদন ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছিল। একই সময়ে জাপান ৩ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টন, রাশিয়া ৩ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার ও দক্ষিণ কোরিয়া ২ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার টন অপরিশোধিত লোহা উৎপাদন করেছে। 

জিএমকে সেন্টারের পূর্ববর্তী রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন ২০২২ সালের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ কমে পেয়ে ১৮৫ কোটি টনে পৌঁছায়। শীর্ষ তিন উৎপাদনকারীর মধ্যে চীন ১০১ কোটি ৯০ লাখ, ভারত ১৪ কোটি ২০ লাখ ও জাপান ৮ কোটি ৭০ লাখ টন উৎপাদন করেছিল।