সূর্যের আলো না থাকলে বা বাতাস কম থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত দেখা দেয়। তাই নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পরে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি।
এতদিন এ কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। তবে লিথিয়ামসহ প্রয়োজনীয় খনিজের সরবরাহ সীমিত। এগুলো উত্তোলনেও পরিবেশের ক্ষতি হয়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান এখন বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি প্রযুক্তি হলো গলিত লবণ, বালি ও মানুষের ঘাম ব্যবহার করে শক্তি সংরক্ষণ বা উৎপাদন।
গলিত লবণে শক্তি সংরক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা মরুভূমিতে সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে বিশেষ ধরনের লবণ প্রায় ৫৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম করা হয়। এ তাপ ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরে রাখা যায়। পরে সে তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়। বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। অর্থাৎ এখানে বিদ্যুৎকে তাপশক্তি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
ডেনমার্কও বড় আকারে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। দেশটির একটি প্রকল্পে গরম লবণের মাধ্যমে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত শক্তি সংরক্ষণ করা সম্ভব বলে জানানো হয়।
বালির ব্যাটারি
ফিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট শহর পরনাইনেনে বিদ্যুৎ সংরক্ষণে ব্যবহার হচ্ছে বালির ব্যাটারি। এখানে প্রায় দুই হাজার টন গুঁড়া করা সোপস্টোন ব্যবহার করে তাপশক্তি সংরক্ষণ করা হয়।
এ ব্যাটারি এক মেগাওয়াট তাপশক্তি সরবরাহ করতে পারে। এর সংরক্ষণক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা। গ্রীষ্মকালে এটি প্রায় এক মাসের তাপের চাহিদা পূরণ করতে পারে। শীতকালে প্রায় এক সপ্তাহের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম।
মানুষের ঘাম থেকে বিদ্যুৎ
এদিকে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের গবেষকরা মানুষের ঘাম থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তারা একটি পাতলা পরিধানযোগ্য প্যাচ তৈরি করেছেন। ঘামের মধ্যে থাকা ল্যাকটেট নামের উপাদান থেকে এটি অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।
গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি স্মার্ট ঘড়ি, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ যন্ত্রসহ বিভিন্ন ছোট পরিধানযোগ্য ডিভাইসে কাজে লাগতে পারে। এতে এসব যন্ত্রে আলাদা ব্যাটারির প্রয়োজন কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার যত বাড়বে, ততই উন্নত ও কম খরচের বিদ্যুৎ সংরক্ষণ প্রযুক্তির চাহিদা বাড়বে। তাই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির পাশাপাশি লবণ, বালু ও জৈব উপাদানভিত্তিক এসব নতুন প্রযুক্তিও ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।










