দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত গত ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এসময়ে বন্দর থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ৩৫৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তবে অর্থবছরের বাকি সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে আশা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাড়তি ৮৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। যার কারণে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে এনবিআর। এ অর্থবছরের প্রথম (জুলাই) মাসে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
আগস্ট মাসে ৪৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। অক্টোবর মাসে ৩৯ কোটি ২ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীত আদায় হয়েছে ৩৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। নভেম্বর মাসে ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ডিসেম্বর মাসে ৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
জানুয়ারি মাসে ৩৪ কোটি ১২ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। মার্চ মাসে ৪২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এপ্রিল মাসে ৪২ কোটি ৮১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে বন্দর থেকে ৩৫৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। একইসময়ে বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৫০ কোটি টাকা। সে হিসেবে বিগত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে যা দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, বন্দর থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ার অন্যতম কারণ বিগত অর্থবছরে রেয়াতি হারে চাল আমদানির সুযোগ দেয়ায় বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল আমদানি হয়েছিল। এ কারণে সেসময় বাড়তি পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে চাল আমদানিতে শুল্কহার বেশি থাকায় বন্দর দিয়ে চাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিগত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৪২ হাজার ৮৯০ টন চাল আমদানি হয়, যা থেকে রাজস্ব আসে ২৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ৩৬ টন চাল আমদানি হয়েছে যা থেকে রাজস্ব এসেছে ২৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা। একইভাবে গত অর্থবছরের মার্চ মাসে ৫৫ হাজার ৪০ টন চাল আমদানি হয় যা থেকে রাজস্ব আসে ৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের মার্চ মাসে কোনো চালই আমদানি হয়নি। গত অর্থবছরের এপ্রিল মাসে ৫৬ হাজার ৫৫১ টন চাল আমদানির বিপরীতে ২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা রাজস্ব আসে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল মাসে চাল আমদানি হয় মাত্র ৩২ টন যা থেকে রাজস্ব এসেছে ২২ লাখ টাকা।
তবে অর্থবছরের শেষ দুই মাসে বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্যের আমদানি বাড়ার প্রত্যাশা করছেন এসএম নুরুল আলম। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাকি দুই মাসে বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি বাড়লে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়বে। তাছাড়া রেয়াতি হারে চাল আমদানির সুযোগ বিগত বছরের তুলনায় সরকার যদি এ অর্থবছরেও দেয় তাহলে এবারো সফলতার সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।










