প্রায় দুই শতাব্দী পুরনো প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প সংরক্ষণে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করল ফরাসি ফ্যাশন হাউজটি। খবর দ্য ন্যাশনাল।
শ্যানেল চলতি মাসের শুরুর দিকে এ অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয়। তবে চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি।
১৮৩৮ সালে জোসেফ-ক্রিস্টোফ প্রতিষ্ঠা করেন শারভে। একে বিশ্বের প্রথম বিশেষায়িত শার্ট নির্মাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক দোকান প্যারিসের বিখ্যাত প্লাস ভঁদোমে অবস্থিত।
শারভে মূলত অর্ডার অনুযায়ী তৈরি ও প্রস্তুত পোশাক তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্বদের পোশাক তৈরি করে সুনাম অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শারভের গ্রাহক তালিকায় ছিলেন ফরাসি কবি শার্ল বোদলেয়ার, সাহিত্যিক মার্সেল প্রুস্ত, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি, ফ্যাশন ডিজাইনার ইভ সাঁ লরাঁ, প্রয়াত ডিজাইনার কার্ল লেগারফেল্ড ও সাবেক ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামের মতো ব্যক্তিত্ব।
সম্প্রতি নতুন প্রজন্মের ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যেও শারভে নতুন করে আলোচনায় আসে। শ্যানেলের নতুন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ম্যাথিউ ব্লাজি ২০২৬ সালের বসন্ত-গ্রীষ্মকালীন ডিজাইনের জন্য শারভেকে শার্ট তৈরির দায়িত্ব দেন। গত বছরের অক্টোবরে প্রদর্শিত সে সংগ্রহে পুরুষদের ধাঁচের শার্টের সঙ্গে নারীদের নরম ও ঢেউ খেলানো স্কার্টের সমন্বয় করা হয়।
ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, পুরুষ ও নারীর পোশাকের নকশার মিশ্রণ শ্যানেলের দীর্ঘদিনের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। ব্র্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা গ্যাব্রিয়েল কোকো শ্যানেল নারীদের পোশাকে পুরুষদের পোশাকের বিভিন্ন উপাদান যুক্ত করার পথিকৃৎ ছিলেন। বিশ শতকের শুরুর দিকে এ ধরনের পোশাককে সাহসী ও ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হতো।
শ্যানেলের ফ্যাশন বিভাগের প্রেসিডেন্ট ব্রুনো পাভলোভস্কি বলেন, ‘দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কারুশিল্প নিয়ে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। মানের সঙ্গে কোনো আপস না করা, কারিগরদের প্রতি সম্মান ও ঐতিহ্য ধরে রাখার বিশ্বাস—এ মূল্যবোধই দুই প্রতিষ্ঠানকে এক করেছে।’
তিনি জানান, বিরল কারুশিল্প সংরক্ষণ ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়াকে শ্যানেল দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখে।
অন্যদিকে শারভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্যঁ-ক্লদ কোলবান বলেন, ‘কারিগরি দক্ষতা সংরক্ষণ, মান বজায় রাখা ও প্রতিটি খুঁটিনাটিতে যত্ন নেয়ার মতো অভিন্ন মূল্যবোধই এ অংশীদারত্বের ভিত্তি।’










