ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় গম ও ভুট্টা উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দিয়েছে ইউরোপিয়ান কমিশন। তবে আমদানি বাড়ায় সরবরাহ সংকট প্রকট হবে না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি মাসভিত্তিক সরবরাহ ও চাহিদাসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে কমিশন। খবর রয়টার্স।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে পূর্বাভাস সংশোধন করে ১২ কোটি ৫৩ লাখ টন গম উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। এর আগে আগস্টে ১২ কোটি ৬১ লাখ টন ফলনের প্রত্যাশা করেছিল কমিশন। বছরওয়ারি হিসেবে সংশোধিত পূর্বাভাসের খাদ্য শস্যটির উৎপাদন ৪ লাখ টন কমে গেছে। ২০২২ সালে ১২ কোটি ৫৭ লাখ টন উৎপাদন হয়েছিল।

ভুট্টার উৎপাদন পূর্বাভাসও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। আগস্টে কমিশন প্রত্যাশা করেছিল এ বছর উৎপাদন দাঁড়াবে ৬ কোটি ১৭ লাখ টনে। এর আগে জুলাই মাসে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছিল ৬ কোটি ৩০ লাখ টন। চলতি মাসে সর্বশেষ প্রাক্কলিত প্রতিবেদনে কমিশন জানিয়েছেন, শস্যটির উৎপদন নামবে ৫ কোটি ৯৮ লাখ টনে। ইউরোপীয় কমিশন পূর্বাভাস সংশোধন করে কমালেও তা গত বছরের উৎপাদন হারকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০২২ সালে তীব্র খরার প্রভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল শস্যটির। সে সময় সাকূল্যে ৫ কোটি ২১ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছিল।

উৎপাদন কমায় খাদ্যশস্য দুটির আমদানি বাড়াবে ইইউ। ২০২৩-২৪ বিপণন বছরে ৬৫ লাখ টন গম আমদানির পূর্বাভাস দিয়েছে কমিশন, যা গত বছরের ৪০ লাখ টন থেকে বেশি। একই সময়ে ভুট্টা আমদানির পরিমাণও বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২ কোটি টনে। ২০২২-২৩ বিপণন বছরে ১ কোটি ৭০ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করেছিল ইইউ।

এদিকে আমদানি বাড়ায় গম-ভুট্টার মজুদের পরিমাণও বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গম মজুদের পূর্বাভাস ১ কোটি ৭৮ লাখ টনে উন্নীত করেছে ইউরোপিয়ান কমিশন। এর আগে গত মাসে ১ কোটি ৬৩ লাখ টন মজুদের প্রত্যাশা করেছিল সংস্থাটি। পাশাপাশি ভুট্টার মজুদ পূর্বাভাসও ১ কোটি ৭৩ লাখ টন থেকে ১ কোটি ৭৮ টনে বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে যব উৎপাদনের পূর্বাভাসও কমিয়েছে কমিশন। আগস্টে ৪ কোটি ৮৪ লাখ টন উৎপাদন প্রত্যাশা করেছিল। সেখান থেকে চলতি মাসে আরো ২ লাখ টন উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে সংস্থাটি। তথ্য বলছে, ২০২২ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোতে ৫ কোটি ১৫ লাখ টন যব উৎপাদন হয়েছে।

২০২৩-২৪ বিপণন বছরে গম ও যব রফতানির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে কমিশন। এ সময় ইউরোপ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ টন গম ও ১ কোটি টন যব রফতানির পূর্বাভাস বহাল রয়েছে। আর তেলবীজ উৎপাদন গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। সংশোধিত পূর্বাভাসে সরিষা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। আগের মাসে শস্যটির উৎপাদন ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৯১ লাখ টন।