ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ, ইনোভেশন, ইনকিউবেশন অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশন (আইরিক) এবং হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের হেলথ সিস্টেমস ইনোভেশন ল্যাবের (এইচএসআইএল) যৌথ সহযোগিতায় দুইদিনব্যাপী ‘হার্ভার্ড হেলথ সিস্টেমস ইনোভেশন ল্যাব হ্যাকাথন ২০২৬’-এর বাংলাদেশ রাউন্ডের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গতকাল ইউআইইউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের একমাত্র আঞ্চলিক কেন্দ্র ঢাকা হাব হিসাবে ইউআইউউ টানা দ্বিতীয়বারের মতো এ মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক হ্যাকাথনের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সায়েবা আক্তার এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) পরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর ড. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি। সভাপতিত্ব করেন ইউআইইউর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া।

এইচএসআইএলের হ্যাকাথনটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বাস্থ্য হ্যাকাথন হিসেবে স্বীকৃত। চলতি বছরের আয়োজনে মূল প্রতিপাদ্য, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে উচ্চ-মূল্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি’। যেখানে ৪৬টি দেশের ৫০টিরও বেশি গ্লোবাল হাবের মাধ্যমে ১৪ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত ছিলেন। ঢাকা হাবে সারাদেশ থেকে ৬৫০টিরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়ে। একটি প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার পর ৯৮ জন অংশগ্রহণকারীসহ ২২টি দল এবং চারজন স্বতন্ত্র উদ্ভাবককে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭টি দল ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

প্রতিযোগিতা শেষে দুটি দলকে বাংলাদেশ হাবের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর একটি মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র (ইউআইইউ) প্রতিনিধিত্বকারী ‘টিম ম্যাভেরিক’। তারা উদ্ভাবন করেছে— শিশুদের ডিসলেক্সিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং তাদের সহায়তার জন্য একটি এআই-চালিত ইন্টারেক্টিভ লার্নিং প্লাটফর্ম। প্লাটফর্মটি শিশুদের ব্যক্তিগত দক্ষতা অনুযায়ী শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি নিয়মিত ‘পারফরম্যান্স অ্যানালিটিক্স’ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অপর দল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর’বি) প্রতিনিধিত্বকারী ‘শিগেলাএআই ডায়াগনস্টিকস বাংলাদেশ’। দলটি উদ্ভাবন করেছে সীমিত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সম্পদসম্পন্ন পরিবেশে শিগেলা-জনিত ডায়রিয়া রোগ নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনার উন্নতির জন্য এআই-ভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট টুল। টুলটি নিয়মিত ক্লিনিক্যাল ডাটা বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক ‘রিস্ক স্কোর’ বা ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করতে পারে, যা চিকিৎসকদের নির্ভুল ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষভাবে সহায়তা করতে সক্ষম।

উভয় দলই সম্মানসূচক পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ, সার্টিফিকেশন, এইচএসআইএল গ্লোবাল বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং হার্ভার্ড এইচএসআইএল ভেঞ্চার ইনকিউবেশন প্রোগ্রামে অন্যান্য আন্তর্জাতিক হাবের বিজয়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। বাংলাদেশ রাউন্ডের জুরি প্যানেলে ছিলেন ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন প্রফেসর ড. লরা জে. রাইখেনবাখ, বাংলাদেশ প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ সোসাইটির (ওজিএসবি) প্রফেসর ড. ফেরদৌসী বেগম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) উপ-পরিচালক (এমআইএস) ড. কুলসুম আরা, ইউআইইউ আইরিকের পরিচালক প্রফেসর ড. খন্দকার এ মামুন, স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল হাই, ইউনাইটেড আয়গ্যাস লিমিটেডের সিইও হারুন ওরতাক এবং ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার আবু রায়হান আল বেরুনি।

প্রোগ্রামটি স্পন্সর বা পার্টনারদের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল প্রাইম ব্যাংক এবং ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড। এসআরএইচআর পার্টনার হিসেবে ছিল সুইডেন দূতাবাস, অপরাজেয় তরুণ ও আরএইচএসটেপস। এআই হেলথ পার্টনার হিসেবে ছিল সিএমইডি হেলথ, হট বেভারেজ পার্টনার ইস্পাহানি মির্জাপুর টি এবং মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল বণিক বার্তা ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।