বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে পেঁয়াজের দাম। এ অবস্থায় দাম নিয়ন্ত্রণে ও দেশের চাহিদা মেটাতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ে। গত তিনদিনে বন্দর দিয়ে ৬০টি ট্রাকে ১ হাজার ৭২৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা করে। আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করায় জমে উঠেছে বন্দরের পেঁয়াজের বাজার।

পাইকারি ক্রেতারা জানান, বন্দর দিয়ে আবারো ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুরু হয়েছে। এছাড়া দাম কম ও বাজারে চাহিদা বাড়ায় ভারতীয় পেঁয়াজ কিনতে হিলি স্থলবন্দরে ক্রেতারা আসছেন। 

বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার শাহজাহান আলী জানান, পুর্বে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ২ থেকে ৩ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হতো। বর্তমানে দেশীয় মুড়িকাটা পেঁয়াজ শেষের দিকে হওয়ায় সরবরাহ কমতির দিকে রয়েছে। যার কারনে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি বেড়েছে। এখন বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। মোকামে চাহীদা না থাকায় পুর্বে না আসলেও বর্তমানে মোকামগুলোতে পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। তাই হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন তিনি। পেঁয়াজ ক্রয় করে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন বলে জানান তিনি।     

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানান, বলেন, এবার পাবনা মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে পেঁয়াজের আবাদ হয়। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় ওইসব অঞ্চলে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হয়ে উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন জানান, বন্দরে কদিন পুর্বে নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৩৫ টাকা বিক্রি হলেও তা থেকে কমে বর্তমানে ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ৩১ থেকে ৩২ টাকা বিক্রি হলেও তা থেকে কমে ২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বর্তমানে পেঁয়াজের উপর যে আমদানি শুল্ক রয়েছে সেটি কমলে পেঁয়াজের দাম যেমন আরো কমবে তেমনি দেশের মানুষ খানিকটা কম দামে খেতে পারবে বলে জানান তিনি। 

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, পুর্বে বেশকিছুদিন ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ২ থেকে ৩ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছিল। চলতি সপ্তাহ থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অনেকটা বেড়েছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। সেটি কোনদিন বেড়ে ৩০ ট্রাকে দাঁড়াচ্ছে। গত তিনদিনে বন্দর দিয়ে ৬০টি ট্রাকে ১ হাজার ৭২৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সামনে রমজান, আর পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচামাল, তাই এটি যেন দ্রুত খালাস করে নিতে পারেন আমদানিকারকরা, এজন্য লোড আনলোড করার জন্য আলাদা একটি স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।