এ লক্ষ্যে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তারা। বাংলাদেশে ক্যাশলেস আর্থিক সেবার পরিসর বাড়ানোই এ প্লাটফর্মের লক্ষ্য। ৪ মার্চ স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে উভয় প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হয়। বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়োহান বুসে এবং হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়ার চিফ অপারেটিং অফিসার টিম ঝৌ (শাওফেং) নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
সম্প্রতি বাংলালিংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ অংশীদারত্বের আওতায় ‘মুক্ত পে’ হুয়াওয়ের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্লাটফর্ম ব্যবহার করে নিরাপদ, তাৎক্ষণিক ও বড় অংকের ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করবে। প্লাটফর্মটি তাৎক্ষণিক ক্যাশলেস অর্থ পরিশোধ ও ট্রান্সফারের সুবিধা দেবে। পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাংক খাতের মতো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ফলে সেবাটি হবে আরো নির্ভরযোগ্য।
এর আগে এ উদ্যোগের জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ‘মুক্ত পে’-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানিয়েছে ডিজিটাল অপারেটরটি।
বাংলালিংকের সিইও ইয়োহান বুসে বলেন, ‘গ্রাহক ও কমিউনিটির কল্যাণের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা প্রতিটি উদ্যোগ নিই। দেশজুড়ে সবার জন্য ডিজিটাল আর্থিক সেবা সহজলভ্য করার যে অঙ্গীকার আমাদের, ‘মুক্ত পে’ তারই প্রতিফলন। বিশ্বমানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট অভিজ্ঞতা গড়ে তুলতে এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতির অংশ হতে পারবেন।’
হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়ার চিফ অপারেটিং অফিসার টিম ঝৌ (শাওফেং) বলেন, ‘বাংলালিংকের ডিজিটাল কৌশল সম্পর্কে আমরা অবগত এবং এটাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। ‘মুক্ত পে’ প্লাটফর্মে হুয়াওয়ের সর্বাধুনিক ফিনটেক প্রযুক্তি যুক্ত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ও প্রবৃদ্ধিশীল ডিজিটাল আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই, যা বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরে অবদান রাখবে।’
উল্লেখ্য, ‘মুক্ত’ শব্দের অর্থ স্বাধীন। এ নামের মাধ্যমে আর্থিক সেবা সবার কাছে সহজলভ্য করার বাংলালিংকের লক্ষ্যকে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে মোবাইল সংযোগ সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকাও এ নামের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিকে অবদান রাখার পাশাপাশি ব্যাংকসেবার বাইরে থাকা এবং সীমিত ব্যাংকসেবা পাওয়া জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।









