ভিয়েতনামের কফি রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে রফতানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এসময় রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৭০ হাজার টনে, যা ২ কোটি ১৬ লাখ ব্যাগের (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) সমান। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ প্রাক্কলন প্রকাশ করেছে ভিয়েতনামের জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস।
ভিয়েতনাম বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি রফতানিকারক। তবে গত বছরের চেয়ে চলতি বছর রফতানির পরিমাণ কমে গেছে দেশটির।
ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে রফতানি কমলেও আয়ের ধারা ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতি অ্যারাবিকার তুলনায় রোবাস্তার চাহিদা বেশি থাকার কারণেও কফি বাণিজ্যে সুবিধা পাচ্ছে দেশটি। স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের তথ্যমতে, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে রফতানি আয় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২০ কোটি ডলারে। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরেই দেশটির রফতানি প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার টন, যার মূল্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
বর্তমানে দেশটির কাছে রফতানিযোগ্য কফি সরবরাহ খুবই কম। আগামী নভেম্বর থেকে ফের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ভিয়েতনামে ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে কফি উৎপাদন বাড়বে। সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আবাদের পরিমাণ কমে যাওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন ২০২২-২৩ মৌসুমের তুলনায় ৬ শতাংশ বাড়বে।
এদিকে বর্তমানে তলানিতে থাকা মজুদের কারণে আগস্টে কফির দাম নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। প্রতি টনের মূল্য উঠেছে ২ হাজার ৫৪ ডলারে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৮ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে কফির গড় দাম ৯ শতাংশ বেড়েছে।
ভিয়েতনামের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি ১২ লাখ টন কফি রফতানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানির পরিমাণ ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে আয় ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় কফি রফতানি বাজার জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান।
দেশটির শুল্ক বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, আগস্টে কফি রফতানির পরিমাণ কমে নয় মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। এ সময় ৮৪ হাজার ৬৪৭ টন কফি রফতানি করা হয়। এক মাসের ব্যবধানে রফতানির পরিমাণ ২২ দশমিক ৩ শতাংশ ও আয় ১৬ শতাংশ কমেছে।










