ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এ চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার; বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার; নভো নরডিস্ক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি এবং ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে ইনসুলিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক দীর্ঘদিন ধরে নভোমিকস ও নভোর‍্যাপিডসহ আধুনিক ইনসুলিন ডেনমার্ক থেকে আমদানি করে আসছে। নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় এখন একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ইনসুলিন কার্ট্রিজ বাংলাদেশেই উৎপাদন করা হবে। এতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এ উদ্যোগ আমাদের উন্নত বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর অগ্রগতিকে তুলে ধরে। এটি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও উচ্চমানের ইনসুলিন সরবরাহ সহজ করবে’, যা স্বাস্থ্য খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, ‘এ অংশীদারত্ব স্বাস্থ্য খাতে আমাদের অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের গুণমান নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ইনসুলিনের মতো জটিল বায়োলজিক ওষুধের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক মান বজায় রেখে জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়, এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’

অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, যথাযথ প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রথমবারের মতো দেশে প্রিমিকস ও দ্রুত কার্যকর ইনসুলিন কার্ট্রিজ তৈরি করা হবে। এখানে উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচের গুণগত মান ডেনমার্কে যাচাই করা হবে।

স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, ‘এসকেএফের সঙ্গে নভো নরডিস্কের প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদনের এ উদ্যোগ দেখায়, কীভাবে ড্যানিশ উদ্ভাবন মানসম্মত ডায়াবেটিস চিকিৎসা সহজলভ্য করতে পারে, পাশাপাশি দেশের বায়োম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতাও বাড়াতে সহায়তা করে।’

এ সময় নভো নরডিস্ক বাংলাদেশের এমডি ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি বলেন, ‘এ স্থানীয় উৎপাদন অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ উপলক্ষে নভোমিকস ও নভোর‍্যাপিড ইনসুলিনের দাম ১৮ শতাংশ কমানো হচ্ছে।’ তবে গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, ‘আজ আমরা একটি গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ভিত্তিতে বাংলাদেশে নভো নরডিস্কের প্রথম পেনফিল ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু হলো। এ অর্জন প্রমাণ করে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে প্রস্তুত এবং উচ্চমানের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাবে। ফলে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত চিকিৎসার প্রয়োজন আরো বাড়ছে। নভো নরডিস্ক ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহ করছে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ডায়াবেটিস চিকিৎসার উন্নয়ন এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধের প্রাপ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ২০১২ সাল থেকে তারা দেশে হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল উৎপাদন করছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিদেশেও রফতানি করা হয়।

উল্লেখ্য, ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১৯৯০ সাল থেকে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করে আসছে।