ইরানে হামলা ও এর প্রতিক্রিয়ার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও কৌশলগত মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (এসপিআর) হাত দেয়ার পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। ওয়াশিংটন ধারণা করছে, হামলার পর জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও তা সীমিতই থাকবে। খবর এফটি।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এসপিআর নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।’ ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বাবদ অর্থনৈতিক আঘাত এবং ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে কী প্রস্তুতি নিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউইয়র্ক সময় রোববার সন্ধ্যা ৬টায় বাজার খোলার পর জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্ট শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার ৮৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছিল।

মার্কিন কৌশলগত মজুদে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর দাম বেড়ে গেলে বাজার ঠিক রাখতে এ মজুদ থেকে জ্বালানি তেল ছাড়া হয়েছিল।

কিন্তু এবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঠেকানো যাবে না বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এ সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি হয়ে জাহাজ চলাচল কমে এসেছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্লিয়ারভিউ এনার্জি পার্টনার্সের গবেষণা পরিচালক কেভিন বুক বলেন, ‘জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের এসপিআরে এখনো যথেষ্ট জ্বালানি তেল আছে। কিন্তু কৌশলগত মজুতের ক্ষেত্রে সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ, পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজে পূর্ণমাত্রার সংকট তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তোলনকারী দেশগুলোর কৌশলগত মজুদ দিয়েও ঘাটতি পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়া কঠিন হতে পারে।’

মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আজ ওপেক প্লাস দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে।

১৯৭৩-৭৪ সালের জ্বালানি তেল অবরোধের পর কৌশলগত মজুদ গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় ওপেকের আরব সদস্যরা ইওম কিপুর ওয়ারে ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় চার গুণ বেড়ে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় পড়ে।